কলকাতা: অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল গুন্ডা দমন বিল। এই বিলের পক্ষে ভোট দিলেন ১৭৬ জন বিধায়ক। অন্যদিকে, বিপক্ষে ভোট দিলেন ৪১ জন। আর ভোটদানে বিরত থাকলেন ২০ জন বিধায়ক। “সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে গ্রেফতার করা হবে, বাজেয়াপ্ত করা হবে সম্পত্তি। কেউ ছাড় পাবে না”, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বিধানসভায় ধ্বনি ভোট পাশ হল গুন্ডা দমন বিল। গুন্ডা দমন বিল চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে। আজ দীর্ঘক্ষণ ধরে এই বিল নিয়ে আলোচনা চলে। এবং সেই আলোচনার পর অবশেষে হয় ভোটভুটি। সেই ভোটাভুটিতে দেখা গেল, সংখ্যা গরিষ্ঠ বিধায়করা এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর এই বিলের পক্ষে তাঁরা ভোট দেওয়ার ফলে বিধানসভায় পাস হয়ে গেল গুন্ডা দমন বিল।
আজ পাশ হওয়া এই বিলে বলে দেওয়া হয়েছে কারা গুন্ডা। চিহ্নিত করা হয়েছে কারা সমাজ বিরোধী। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যদি কোনও ভাঙচুর হয়, অগ্নি সংযোগ হয় বা অন্য কোনও ভাবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়, তাহলে দোষীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে, সেখান থেকে সেই ক্ষতি পূরণ করার প্রভিশনও রাখা হয়েছে।
ফৌজদারি আইনের সঙ্গে নতুন এই আইনের কী পার্থক্য? সেটাও এদিন তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বললেন, “দাঙ্গা, বেআইনি সমাবেশ, হিংসাত্মক বিক্ষোভ, সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফৌজদারি আইনে প্রকৃত দোষীদের থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে কোনও ব্যবস্থা ছিল না। আর সেই কারণেই এই আইনের প্রয়োজন।”
কোনও দাঙ্গাবাজের ঠাঁই নেই, এদিন বিধানসভা থেকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বললেন, “এই লোকগুলো ৬ মাস, ৮ মাস জেলে থাকবে। তারপর বেরিয়ে আসবে। আবার বুক ফুলিয়ে ঘুরবে, আবার পঞ্চায়েতে লড়বে। আবার ভোট লুঠ করবে। এই জিনিস বন্ধ করার জন্যই এই আইন। ভিটা-মাটি ছাড়া করব। কোনও দাঙ্গাবাজের ঠাঁই নেই। আর যার অতীতের রেকর্ড খারাপ থাকবে, যে দলেরই হোক, যে নেতাই হোক। ১ বছর প্রিভেন্টিং অ্যারেস্ট থাকবে। আশা করি রাজনৈতিক লড়াই করবেন। অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি করবেন। আমাকে ১০৪-বার হাইকোর্টে যেতে হয়েছে। আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তো ১৫ দিনের মধ্যে অনুমতি পেয়েছেন।”
Agnimitra Paul: ‘আজকের বাংলা আইনের বাংলা, সাধারণ মানুষের বাংলা’। বললেন অগ্নিমিত্রা পাল | ABP Ananda
