
রাজায় রাজা যুদ্ধ হয়, প্রাণ যায় উলুখাগড়ার। শুধুই কি প্রাণ যায়? যুদ্ধকালে মানুষের উপর চলে হাজারো পরীক্ষা-নিরীক্ষা। যুদ্ধের সময় মানুষের উপর ভয়ঙ্কর সব পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানোর অভিযোগ রয়েছে জাপানের বিরুদ্ধেও। সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমা, সিরিয়াল, তথ্যচিত্রও।

চিনের মিউজিয়ামে এবার জায়গা পেল ইতিহাসের সেই কুখ্যাত অধ্য়ায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের উপর কী ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় জাপান, তার বিশদ ব্যাখ্যা রয়েছে।

চিনের উত্তর-পশ্চিমের হারবিন শহরের মিউজিয়ামে সম্প্রতি কিছু ঐতিহাসিক নথি প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের কুখ্য়াত Unit 731 কুকর্মের বিবরণ রয়েছে। বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মানুষকে বন্দি করে, তাঁদের শরীরে পশুর রক্ত প্রয়োগ করে চলত পরীক্ষা নিরীক্ষা।

আর্কাইভ ঘেঁটে ওই সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, জাপানের তদানীন্তন আর্মি সার্জন শুতোমু সাইতোর লেখালেখি থেকেও অনেক তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মিউজিয়ামের গবেষকরা।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ১৯৩৮ সালে ২৩ জন বন্দির উপর বিশেষ এক্সপেরিমেন্ট চালায় জাপানের সেনা। পশুর শরীর থেকে সংগৃহীত রক্ত প্রয়োগ করা হয় মানুষের শরীরে। ঘোড়া, ভেড়া, কুকুর, খরগোশ, এমনকি মুরগির রক্তও ছিল সেই তালিকায়।

চিনের মিউজিয়ামে এবার জায়গা পেল ইতিহাসের সেই কুখ্যাত অধ্য়ায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের উপর কী ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় জাপান, তার বিশদ ব্যাখ্যা রয়েছে।

মানুষের শরীরে পশুর রক্ত প্রয়োগের ফলাফল কী, তা নিয়ে বিশদ রিপোর্টও তৈরি হয়, যা জাপানের মিলিটারি মেডিক্যাল কনফারেন্সেও পেশ করা হয়। পরে ১৯৪০ সালে মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয় ওই রিপোর্ট।

মিউজিয়ামের গবেষকদের দাবি, আহত সৈনিকদের জরুরি অবস্থায় কী করে রক্ত সরবরাহ করা যায়, তার বিকল্প বের করতেই ওই পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় ইম্পিরিয়াল জাপানিজ আর্মি। যুদ্ধক্ষেত্রে রক্ত সংরক্ষণ, সিরাম এবং অন্য বিকল্প পদ্ধতিতে রক্ত প্রয়োগের বিভিন্ন পদ্ধতির উল্লেখও ছিল গবেষণায়।

সেই সময়কার যে নথিগুলি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, প্রবল রক্তক্ষরণের পর রোগীর শরীরে পশুর রক্ত প্রয়োগ করা হয়। তাতে যে রগীর শরীরে গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তাও লিপিবদ্ধ রয়েছে। শুধু রক্তই নয়, মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের দাবি, পশুর শরীর থেকে প্রাপ্ত সিরামও প্রয়োগ করা হয় মানুষের শরীরে। গবেষণাগারে সেই নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে, মানুষের শরীরে পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রভাবও বিশ্লেষণ করে দেখা হয়।

ওই রিপোর্ট যেহেতু জার্নালে প্রকাশিত হয় পরবর্তীতে, তাই শুধুমাত্র জাপানের সেনাবাহিনীর আধিকারিক, চিকিৎসক এবং গুটিকয়েক বিজ্ঞানীর মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল না, উপর মহল পর্যন্ত সকলে ওয়াকিবহাল ছিলেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের দাবি, Unit 731-এর আধিকারিকদেরও বেশ কিছু রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে জার্নালে, যাতে যুদ্ধে ব্যাকটিরিয়ার ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। শিরো ইশি, মাসাজি কিটানোর মতো আধিকারিকদের নাম উল্লেখ রয়েছে। এই ধরনের গবেষণা চিকিৎসা নীতিরও পরিপন্থী। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুনের মতে মানুষের উপর ভয়ঙ্কর ওই পরীক্ষা নিরীক্ষা, জৈব হাতিয়ারের প্রয়োগ ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়, যা কখনও ভোলা যাবে না।

জাপানের সেনাবাহিনীর Unit 731 বরাবরই কুখ্যাত। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জৈব হাতিয়ারের ব্যবহার থেকে মানুষের উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ওই সব পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
Published at : 05 Jul 2026 06:11 PM (IST)
