অর্ণব মুখোপাধ্যায়, পুরী : কথা শোনেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দিঘায় পাথরের মূর্তি করে তাতে ‘ধাম’ লিখেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রভু কারও অহঙ্কার সয় না। তার জন্যই টেকেনি সরকার। রাজ্যের পালাবদল নিয়েই এবার এমন মন্তব্য করলেন পুরীর জগন্নাথ ধামের জগন্নাথদেবের মুখ্য পানিগ্রাহী জগন্নাথ দয়িতাপতি।
পুরীর জগন্নাথ ধামের জগন্নাথদেবের মুখ্য পানিগ্রাহী জগন্নাথ দয়িতাপতি বলেছেন, ‘আমি কোনও রাজনীতি করি না। যেটা লিগাল হয়, আমি বলি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কথা শুনল না। দিঘাতে ধাম লিখল। আমার কথা কিচ্ছু মানল না। পাথরের মূর্তি করল। প্রভু অহঙ্কার সয় না। শুভেন্দু আসল। শুভেন্দু শিষ্য আমার। ও সঙ্গে সঙ্গে ধামটা কেটে দিল। ধাম লিখে লাভ কী আছে? আরে ধাম তো জগন্নাথ ধাম। এরম তো হাজার হাজার মন্দির তৈরি হচ্ছে। কী আছে… সরকার উল্টে গেল। প্রভু কারও অহঙ্কার সয় না। ভগবান কারও গর্ব সয় না। এই জন্য সরকার উল্টাল।’
রথযাত্রা উপলক্ষে সেজে উঠছে পুরীর জগন্নাথ মন্দির
সম্প্রতি পুরনো রথযাত্রা কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয় সরকারের তরফে। এ নিয়েও এদিন কার্যত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পুরীর জগন্নাথ ধামের জগন্নাথদেবের মুখ্য পানিগ্রাহী জগন্নাথ দয়িতাপতি। তিনি বলেন, চৈতন্য মহাপ্রভুর দেশ বাংলাকে সবচেয়ে ভালবাসি আমি। শ্রদ্ধা করি। বাংলার লোকেদের আমি আশীর্বাদ করি। রথযাত্রা উপলক্ষে সেজে উঠছে পুরীর জগন্নাথ মন্দির। শুক্লপক্ষের পুণ্য তিথিতে টান পড়বে রথের রশিতে। মাসির বাড়ি যাবেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা। বুধবার প্রায় দিনভর বৃষ্টি হয়েছে পুরীতে। বৃহস্পতিবারও ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছে সৈকত শহরে। তারই মধ্যে রথের রশি ছুঁতে ভিড় জমিয়েছেন কাতারে কাতারে ভক্ত।
রথযাত্রার শুরুতেই থাকে বলরামের রথ। বলরামকে বলা হয় গুরুর প্রতীক। এরপর সুভদ্রার রথ। সুভদ্রা হলেন ভক্তির প্রতীক। সবশেষে জগন্নাথের রথ। তিনি হলেন ঈশ্বরের প্রতীক। বলা হয়, গুরুর হাত ধরে ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনো যায়। প্রতিবারের মতো এ বারও বিশেষ ধরনের কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি রথ – জগন্নাথদেবের নন্দীঘোষ, বলভদ্রের তালধ্বজ এবং সুভদ্রার রথ দর্পদলন পদ্মধ্বজ। রথযাত্রা উপলক্ষে পুরীর সমুদ্রসৈকতে মহাপ্রভু জগন্নাথের প্রতিকৃতি তৈরি করেন পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত বালুশিল্পী সুদর্শন পট্টনায়ক।
