প্রদ্যোৎ সরকার, নদীয়া: আজ রথযাত্রা। পুরীতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রথযাত্রার সমস্ত নিয়মকানুন। আর রথের দিন সকালে ইসকন হেডকোয়ার্টার মায়াপুরে সস্ত্রীক গেলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। গোমাতা পুজো দেওয়ার পাশাপাশি, মা ও স্ত্রীকে সঙ্গে করে যজ্ঞাহুতি ও দিলেন মন্ত্রী।
রথের দিন ইসকন হেডকোয়ার্টার মায়াপুরে সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষ
রথের দিন সকালে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে মায়াপুর ইসকনে গেলেন, রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দিরে ভগবানের উদ্দেশ্যে এদিন আরতি করেন দিলীপ ঘোষ। এরপরে গোমাতার পুজোতেও অংশ নেন তাঁরা। নিজের হাতে গো মাতাকে খাওয়ালেন, পা ধোয়ালেন, এবং প্রণাম করলেন। অংশ নিলেন যজ্ঞানুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে। স্ত্রীকে নিয়ে রথের সকালে যজ্ঞাহুতি দিলেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্যপালের কাছে আবেদনের পরে, ইসকনের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের রথযাত্রায় অংশ নিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং খুশি, এ কথা জানান দিলীপ ঘোষ। এদিন স্ত্রী ও মা-কে নিয়ে, পুজোর যাবতীয় রীতিনীতি সারেন দিলীপ ঘোষ। মন্দিরে আরতি ও করেন।
রথযাত্রার অনুষ্ঠানে যোগদান নিয়ে এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূলের জন্য বিজেপির জন্য দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মশা মাছি পর্যন্ত আর ঢুকতে পারবে না।’ মদন মিত্রের কথা উঠতেই দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ওটা অন্য দলের বিষয়, ওটা নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’
পুরীর রথয়াত্রায় বর্ণাঢ্য আয়োজন
অন্যদিকে, রথযাত্রা উপলক্ষে সেজে উঠছে পুরীর জগন্নাথ মন্দির। শুক্লপক্ষের পুণ্য তিথিতে টান পড়বে রথের রশিতে। তার আগে, ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে, পবিত্র পহন্ডি প্রক্রিয়া। মাসির বাড়ি যাবেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা। গতকাল প্রায় দিনভর বৃষ্টি হয়েছে পুরীতে। আজও দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে সৈকত শহরে। তারই মধ্যে রথের রশি ছুঁতে ভিড় জমিয়েছেন কাতারে কাতারে ভক্ত। রথযাত্রার শুরুতেই থাকে বলরামের রথ। বলরামকে বলা হয় গুরুর প্রতীক। এরপর সুভদ্রার রথ। সুভদ্রা হলেন ভক্তির প্রতীক। সবশেষে জগন্নাথের রথ। তিনি হলেন ঈশ্বরের প্রতীক। বলা হয়, গুরুর হাত ধরে ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনো যায়। প্রতিবারের মতো এ বারও বিশেষ ধরনের কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি রথ -জগন্নাথদেবের নন্দীঘোষ, বলভদ্রের তালধ্বজ এবং সুভদ্রার রথ দর্পদলন পদ্মধ্বজ।
