ডালাস: সালটা ১৯৮২, এক ছোট্ট দ্বীপকে ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্তিনা (England vs Argentina)। সেই যুদ্ধের স্মৃতি এখনও অমলিন। এখনও সেই ফকল্য়ান্ড দ্বীপ ঘুরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুন যে এখনও জ্বলছে, তা ফের একবার ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) সেমিফাইনালের পর স্পষ্ট হয়ে গেল।
ম্যাচের শেষ লিসান্দ্রো মার্তিনেজ়, লো সেলসোরা স্ট্যান্ডে উপস্থিত এক আর্জেন্তাইন সমর্থকের থেকে চেয়ে মাঠেই ব্যানার তুলে ধরলেন। যাতে লেখা, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আমাদের।’ ফিফার নিয়ম অনুযায়ী মাঠে কোনও রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া যায় না বা ব্যানার তুলে ধরা যায় না। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে এমনই এক রাজনৈতিক স্লোগানযুক্ত ব্যানার তোলায় এক দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়কে দুই ম্য়াচের জন্য নির্বাসিত করেছিল ফিফা। তার দুই বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মধ্যে যে ডকডোকে নিয়ে বিবাদ, সেই অঞ্চলকে নিজেদের দাবি করা এক ব্যানার তুলে ধরেছিলেন পার্ক জং-উ। তাই তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:- বারংবার তাঁর প্রতি ফিফার পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে, ফের বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে এবার মুখ খুললেন মেসি
আর্জেন্তিনার ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও কড়া শাস্তির দাবি উঠছে ইংল্যান্ডে। যুক্তরাজ্যের বানিজ্য বিভাগের সচিব পিটার কাইল দাবি করেন, ‘এই গোটা বিষয়টা একেবারেই অনুচিত। আমি চাই ফিফা যেন এই বিষয়টা সঠিকভাবে তদন্ত করে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘রাজনীতিটা ফুটবল থেকে পৃথক রাখা উচিত। এমনকী বিশ্বকাপের কেন্দ্রেই এই বার্তাটি রয়েছে যে রাজনীতি ফুটবলের থেকে পৃথক। এবার এটা ফিফার বিষয়।’
এই ব্যানার তুলে ধরার বিষয়ে লিয়ান্দো পারেদেস কথা বলতে গিয়ে জানান, ‘দুর্ভাগ্যবশত এটা আমাদের ইতিহাসের অঙ্গ। আবারও বলব যে আমাদের ইতিহাসের অঙ্গ এটার সঙ্গে জড়িত সকলের জন্যই অত্যন্ত দুঃখের। আমরা জানতাম আমরা এই ম্যাচটা কিন্তু শুধু আমাদের জন্য ওদের জন্যও খেলছি।’
ফকল্যান্ড দ্বীপকে কেন্দ্র করে ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্তিনার এই যুদ্ধ ১০ সপ্তাহেরও বেশি দিন চলে। সেখানে ৬৪৯ জন আর্জেন্তাইন এবং ২৫৫ জন ইংরেজ সেনাদের পাশাপাশি তিনজন উপকূলের মানুষও প্রাণ হারান। এই দ্বীপপুঞ্জ কার সেই নিয়ে যুক্তি, পাল্টা যুক্তি, দাবি, দাওয়া অব্যাহত। সেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলে ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্তিনার সঙ্গে মিশে গিয়ে এক উত্তেজনায় পরিপূর্ণ ম্যাচ খেলা হয়। শেষমেশ ফকল্যান্ডের যুদ্ধে ইংল্যান্ড জয়ী হলেও, ফুটবলের মাঠে কিন্তু লা আলবিসেলেস্তেই জয়ের হাসি হাসে।
