কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলে শুধুই হাহাকার। প্রথমে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় দলটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বনাম ঋতব্রতর ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’। তারপর একের পর এক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে যোগ দিয়েছে ঋতব্রত শিবিরে। এবার আরও অন্ধকারে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়লেন কোয়েল মল্লিক। তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করলেন মণীশ গুপ্ত। অন্যদিকে শুক্রবার ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ যোগ দিচ্ছেন রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ও। যাঁরা যাঁরা যাওয়ার, দয়া করে একুশের আগে তাঁরা নাম লেখান ওদের সঙ্গে। কার্যত ‘ডেডলাইন’ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক সময়ের আরও এক সহকর্মীর বন্ধন আলগা হল। এবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়লেন কোয়েল মল্লিক। একইসঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করলেন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ মণীশ গুপ্ত। অন্যদিকে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর পথে রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ও। এদিকে কোয়েল মল্লিকের পদত্য়াগের ফলে। রাজ্যসভায় ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ সদস্য সংখ্যা কমে হল ৯। প্রথমে ৩ জন, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। আর এবার ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক। আর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই মোদি সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রী এবং নরেন্দ্র মোদি ও অমিক শাহের বিশ্বস্ত সহযোগী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন রঞ্জিত মল্লিকের মেয়ে কোয়েল মল্লিক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ার পর এক এক জন যেন এক এক রকম পন্থা অবলম্বন করছেন। বিধায়ক এবং অন্যান্য নেতা-নেত্রীদের অনেকে সরাসরি ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এ যোগ দিচ্ছেন। সাংসদদের অনেকে সরাসরি NCPI-এর সঙ্গে মিশে গেছেন, যাঁরা মোদি সরকারকে সমর্থন করছেন। কেউ কেউ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁদের ফাঁকা হওয়া রাজ্য়সভার সাংসদ পদেই বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ছেন। আর এবার কোয়েল মল্লিক, রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়েই হেভিওয়েট বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করলেন। আর তাই প্রশ্ন উঠছে, সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইকের মতো কোয়েল মল্লিকও কি বিজেপিতে যোগ দেবেন? তিনিও কি বিজেপির হয়ে এবার রাজ্য়সভায় যাবেন? সুকান্ত মজুমদারের কথা থেকে সেরকমই ইঙ্গিত মিলেছে। বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানান, ”কোয়েল মল্লিক আগে থেকেই প্ল্যান করেছিলেন উনি যে তৃণমূলে উনি থাকবেন না। আগামী দিনে তিনি আবার রাজ্যসভায় পৌঁছবেন। যেরকম বাকি ৩ জন সাংসদের সাথে হয়েছে, বিজেপির শক্তি রাজ্যসভাতে আরও বাড়ছে।”
আরও পড়ুন – ফের বিপাকে অভিষেক! শিশুর হাত বাদ থেকে মাটি ও গাছ চুরির অভিযোগ, আর কী কী কাণ্ড ঘটিয়েছেন ?
অন্যদিকে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ মণীশ গুপ্তও। তিনি জানান, ”আমি তো বাদ। আমাদের রিপ্লেস করে দিয়েছে। আমি তো পার্টি ছেড়েই দিয়েছি।” এই আবহে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর পথে রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ও। শুক্রবার ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ের মধ্য়েও, শক্ত চোয়াল দেখানোর মরিয়া চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী জানান, ”আমি কিন্তু ভয় পাচ্ছি না। যাঁরা যাঁরা যাওয়ার দয়া করে একুশের আগে তাঁরা নাম লেখান ওদের সঙ্গে। কিন্তু কোনও দিনও ভাববেন না, দলটাকে কলঙ্কিত করে আপনারা নিজেদের সম্মানিত করছেন।”
