নয়াদিল্লি: সামনেই হকি বিশ্বকাপ, আর সেই বিশ্বকাপের আগেই জার্সি-বিতর্কে (Hockey India Jersey Color change row) জর্জরিত ভারতীয় হকি। বিশ্বকাপপূর্বে হঠাৎ করেই ভারতীয় হকি দলের জার্সির রং নীল থেকে বদলে গেরুয়া করে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই বিতর্কে আরও ইন্ধন জোগালো হকি ইন্ডিয়ার (Hockey India) সভাপতি দিলীপ তির্কির (Dilip Tirkey) একটি মেল।
হঠাৎ করেই বিশ্বকাপপূর্বে ভারতীয় হকি দলের এই জার্সির রং বদল ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। প্রাক্তন অধিনায়ক বীরেণ রাসকুইনার মতে ভারতীয় দলের পরিচিতটাই আইকনিক নীল রঙের জার্সিতে। সেই রং বদলে ফেলাটা ভারতীয় হকি দলের ঐতিহ্যের পরিপন্থী। এই জার্সির রং বদল ঘিরে রাজনৈতিক রং লাগায় তা আগুনে ঘি ঢেলে। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এবার প্রাক্তন ভারতীয় হকি তারকা এবং বর্তমানে ফেডারেশনের প্রধান দিলীপের এক মেল সর্বসমক্ষে চলে আসায়, বিতর্ক আরও বেড়েছে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিলীপ দাবি করেছিলেন এই গোটা বিষয়টায় অহেতুক রাজনৈতিক রং লাগানো হচ্ছে। জার্সির রং বদলের বিষয়টা খেলোয়াড় ও কোচেদের সঙ্গে পরামর্শ করেই যুক্তিসঙ্গত কারণে করা হয়েছে। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘বর্তমানে ভারতীয় দলের জার্সির রং বদল নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। লোকজন রাজনৈতিক দিক থেকে বিষয়টি দেখছে এবং বিতর্ক হচ্ছে। বিষয়টা কিন্তু একদমই তেমন নয়। এটা আমাদের খেলোয়াড় এবং কোচেদের পরামর্শ অনুযায়ীই করা হয়েছে। হকি টার্ফটা নীল, তাই নীল রঙের জার্সি পরলে দৃশ্যমানতা কমে। টার্ফের রঙের সঙ্গে পার্থক্য করতে এবং খেলোয়াড়দের যাতে একে অপরকে খুঁজে পেতে অসুবিধা না হয়, সেই কারণেই এই রঙটি বাছা হয়েছে।’
হকি ইন্ডিয়ার সচিব ভোলানাথ সিং দাবি করেছিলেন এই জার্সিং রং বদল সম্পূর্ণভাবেই টেকনিক্যাল কারণে হয়েছে, যেটা আধিকারিকরা জানেন। তাতে সমালোচকরা দাবি করেছিলেন পাকিস্তানও সবুজ মাঠে সবুজ রঙের জার্সি পরেই দুই বিশ্বকাপ জিতেছে। তবে এবার ফেডারেশনের প্রধান দিলীপ তির্কিই দাবি করছেন যে এই জার্সির রং বদলের সিদ্ধান্তটা তাঁকে না জানিয়েই নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি ফেডারেশনের সিনিয়র আধিকারিকদের লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন। তির্কি প্রশ্ন তুলছেন যে এমন একটি সিদ্ধান্ত কী করে কার্যনির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তা না বলেই নেওয়া হল। তাঁর দাবি বোর্ডের কাছে এই জার্সির রং বদলের প্রস্তাব না দিয়েই কী করে তা বদল করে দেওয়া হল এং কীভাবেই বা তাঁকে এই বিষয়ে জানানোই হল না।
কার্যনির্বাহী বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তির্কি সেই মেলে লেখেন, ‘ভারতীয় জাতীয় দলের জার্সির রং বদলের বিষয়টা আমি আপনাদের সামনে উপস্থাপিত করতে চাই। এই সিদ্ধান্তটি কার্যনির্বাহী বোর্ডের সামনে আলোচনার জন্য নিয়ে না এসে এবং আমায় আগাম কোনও বার্তা না দিয়েই নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আমার উদ্বেগটা গেরুয়া রং নিয়ে নয়। তবে এই ধরনের এত বড় একটি সিদ্ধান্ত যেখানে আমাদের জাতীয় জলের ঐতিহ্যের প্রশ্ন, সেখানে বিষয়টি লাগু করার আগে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল।’
এ বিষয়ে ভারতীয় হকি দলের প্রধান স্পনসর ওড়িশা সরকারও তির্কিকে জবাবদিহি করতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের প্রধান। সব মিলিয়ে জার্সির রং বদল ঘিরে যে জলঘোলা আরও বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।
