V Kamakoti IIT Madras : সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাবিদকে ‘গোমূত্র বিশারদ’ বলায় এবার প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করলেন দেশের প্রায় ২০০-রও বেশি শিক্ষাবিদ। বিরোধীদের হাততালি কুড়োলেও যা নিয়ে এবার শিক্ষিত সমাজেই প্রশ্নের মুখে পড়লেন কংগ্রেস নেত্রী।
প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে কী মন্তব্য় করেছেন শিক্ষাবিদরা
সম্প্রতি দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা শোধরাতে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মূলত, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের তীব্র আন্দোলনের পরই এই বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যেখানে ইনফোসিসের সহ প্রতিষ্ঠাতা তথা আধার কার্ড বা দেশে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্রের জন্ক নন্দন নিলেকনি ছাড়াও রয়েছেন আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর ভি কামাকোটি।
প্রধানমন্ত্রীর এই দলের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই ‘গোমূত্র বিশারদ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে কামোকোটিকে। রাজধানীর রাজনীতিকদের বক্তব্য, মুখে নাম না নিলেও দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাবিদ কামাকোটিকে ব্যঙ্গ করতে চেয়েছেন ওয়েনাড়ের সাংসদ। প্রিয়াঙ্কার এই ব্যঙ্গ বিদ্রুপের পাল্টা দিয়েছেন দেশের ২০০-রও বেশি শিক্ষাবিদ।
কী বলেছেন এই শিক্ষাবিদরা
দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাবিদকে এই ধরনের ব্যঙ্গ করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা মহল। তারা বলেছেন, ”ব্যঙ্গ বা রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর যে উদ্দেশ্যই ধরনের মন্তব্য হয়ে থাকুক না কেন, এটি ব্যক্তিগত পরিসরে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়।”সম্প্রতি সংসদের অধিবেশনে Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Amendment Bill, 2026 নিয়ে আলোচনার সময় ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ শব্দটা শোনা যায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মুখে।
ঠিক কী বলেছিলেন প্রিয়াঙ্কা গাঁন্ধী
সম্প্রতি নিট প্রশ্ন পত্র ফাঁসের পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-ওপর নজর রাখবে প্রধানমন্ত্রীর ৬ সদস্যের টাস্ক ফোর্স। যার মধ্যে রয়েছেন আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর প্রফেসর কামাকোটি। যাকে নিয়ে সংসদে ব্যঙ্গ করেন কংগ্রেস নেত্রী। ফ্লোরে তিনি বলেন, ‘এই নতুন কমিটিতে একজন প্রাক্তন আইবি চিফ,একজন আইটি কোম্পানির মালিক ও একজন গোমূত্র বিশেষজ্ঞকে রাখা হয়েছে।’
শিক্ষাবিদরা বলেছেন, সংসদে সম্মানজনক তর্ক হওয়া উচিত
প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর এই গোমূত্র বিশেষজ্ঞ মন্তব্য নিয়ে খোলা চিঠি লিখেছেন দেশের ২১৪ জন শিক্ষাবিদ। লাইভমিন্টের কাছে এসেছে সেই চিঠি। যেখানে শিক্ষাবিদরা বলেছেন, ‘সংসদে সম্মান দিয়ে যেকোনও বিষয় নিয়ে তর্ক হওয়া উচিত। কারও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ নয়, তার যুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’ এই বলেই থেমে থাকেননি শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, কোনও পণ্ডিত ব্যক্তিকে কোনও তকমা লাগিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। এই ক্ষেত্রে তাঁর ভাবধারাই বিচার্য বিষয় হওয়া উচিত। এই ধরনের চিন্তাধারায় ওই ব্যক্তির বৈজ্ঞানিক দর্শনকে খাটো করে দেখানোর ঝুঁকি থেকে যায়, যা সংবিধানে প্রদত্ত প্রতিটি নাগরিকের বিকাশের পরিপন্থী। মনে রাখতে হবে, কোনও যৌক্তিক আলোচনার ক্ষেত্রে ব্যঙ্গ বিদ্যুপ বা উপহাস যেন আলোচ্য বিষয়ের বিকল্প না হয়ে ওঠে।
কে এই কামাকোটি
চিঠির বয়ানে বলা হয়েছে, দেশের অন্যতম বড় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসাবে কাজ করেছেন প্রফেসর কামাকোটি। আইআইটি মাদ্রাজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে MS ও PHD ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। দেশে ১৫০-রও বেশি গবেষণপত্র প্রকাশ করেছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, দেশের ৫০টিরও বেশি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে নাম রয়েছে এই গবেষকের। তাঁকে নিয়েই ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
আরও পড়ুন : BSNL আনল ৭২ দিনের ভ্যালিডিটি প্ল্যান, কী কী সুবিধা পাবেন জানেন ?
