কলকাতা : করোনা পরীক্ষার কিট নিয়েও জালিয়াতির অভিযোগ। প্রশিক্ষণহীনদের দিয়ে মেগা ‘কোভিড-১৯ টেস্টিং ড্রাইভ’-এর অভিযোগ উঠছে। জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনে অভিযোগ জানান বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস, ওরফে ববি। অভিযোগের পরই রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে NMC. করোনাকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই নাকি এই কর্মসূচি চালু হয় বলে জানা গিয়েছে।
করোনা কালে বড় জালিয়াতি বাংলায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস, ওরফে ববির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার নড়েচড়ে বসল NMC বা ন্যাশনাল মেডিক্যাল। অভিযোগ পাওয়ার পর একটি চিঠি পাঠিয়ে ঘটনাটি নিয়ে NMC তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকে। NMC স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হবে। দোষী প্রমাণিত হলে বাতিল করতে হবে তাদের রেজিষ্ট্রেশনও।
করোনাকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে মেগা ‘কোভিড-১৯ টেস্টিং ড্রাইভ’ কর্মসূচি চালু হয়। অভিযোগ, ১২ জানুয়ারি, ২০২২ সালে ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলায় ৫৩ হাজার ২০৩ জনের রেপিড টেস্ট (Rapid Antigen Test) হয়েছিল। মোট, ২৬ জন চিকিৎসককে দিয়ে ৫৩ হাজার ২০৩ জনের রেপিড টেস্ট (RAT) হয় ওই দিন। পজিটিভিটি রেট দেখানো হয়েছিল মাত্র ২.৩১%। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য় অনুযায়ী, সেই দিন গোটা রাজ্যে ৭১ হাজার ৭৯২ জনের রেপিড টেস্ট হয়েছিল। অনেকের মনে প্রশ্ন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হলেও, শাস্তিমূলক কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল? নিয়ম অনুযায়ী, চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ পেলে মেডিক্যাল কাউন্সিলকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং অভিযুক্ত চিকিৎসককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। যদি কোনও ব্যক্তির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, কিছু সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে তার রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করার ক্ষমতা আছে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ভুরি ভুরি দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ্যে এনেছেন। বালি, গরু, মাটি পাচারের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছিলেন ববি। একাধিক অভিযোগ দিয়ে হয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। পালাবদলের পর থেকেই প্রকাশ্যে এসেছে সেবাশ্রয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা একের পর এক ‘জালিয়াতি’। মাটির নীচে সেবাশ্রয়ের ওষুধ পুঁতে রাখা হয়েছিল। ভুল চিকিত্সা করে, কারোর বাদ পড়েছে হাত, কারোর পা। কেউ হয়েছেন বিকলাঙ্গ। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধও খাওয়ানো হয়েছে।
