কলকাতা: ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় UPI-কে ঘিরে বড় অঙ্কের নতুন রাজস্বের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্রোকারেজ সংস্থা Bernstein-এর হিসাব অনুযায়ী, UPI লেনদেনে ৪০ বেসিস পয়েন্ট বা ০.৪০ শতাংশ Merchant Discount Rate (MDR) চালু হলে ২০২৮ অর্থবর্ষের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার রাজস্বের পুল তৈরি হতে পারে। তবে এই সম্ভাব্য আয়ের পুরোটা এক জায়গায় যাবে না; ব্যাঙ্ক, থার্ড-পার্টি পেমেন্ট অ্যাপ এবং পেমেন্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে তা ভাগ হতে পারে।
Bernstein-এর বিশ্লেষণে ধরা হয়েছে, UPI-র মোট লেনদেনের মূল্যের ৫০ শতাংশ সম্ভাব্য MDR কাঠামোর আওতায় আসতে পারে। সেই হিসাবে ব্যাঙ্কগুলি প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা এবং Third-Party Application Providers বা TPAPs প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারে।
সম্ভাব্য বণ্টনের ক্ষেত্রে ইস্যুয়িং ব্যাঙ্কগুলি মোট অর্থনীতির প্রায় ৩০ শতাংশ পেতে পারে। অ্যাকোয়ারিং ব্যাঙ্কগুলির ভাগ হতে পারে ২৫ শতাংশ এবং PSP ব্যাঙ্কগুলি ৫ শতাংশ করে পেতে পারে। TPAP-দের মধ্যে মার্চেন্ট-সাইড সংস্থাগুলির জন্য ২৩ শতাংশ এবং কনজিউমার-সাইড TPAP-দের জন্য ৮ শতাংশ হিসাব করা হয়েছে। পেমেন্ট নেটওয়ার্ক পেতে পারে প্রায় ৫ শতাংশ।
আরও পড়ুন: ইপিএফের বেতনসীমা ১৫ হাজার থেকে বেড়ে হতে পারে ২৫ হাজার, কর্মচারীদের জন্য বাস্তবে কী বদল হবে?
তবে এই MDR কাঠামো এখনও চূড়ান্ত নয়। সরকারকে ঠিক করতে হবে MDR-এর হার, কোন ধরনের লেনদেন এর আওতায় পড়বে এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে অর্থ কীভাবে ভাগ হবে। TPAP ও তাদের অংশীদার PSP ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে বাণিজ্যিক ভাগাভাগিও আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে।
বর্তমানে UPI ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের সরাসরি কোনও চার্জ দিতে হয় না। সম্প্রতি সরকারও স্পষ্ট করেছে, ২ হাজার টাকা পর্যন্ত UPI লেনদেনে ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট সিস্টেম প্রদানকারী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চার্জ নিতে পারবে না। RuPay ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রেও একই সুরক্ষা রয়েছে।
তাই সম্ভাব্য পরিবর্তনের মূল প্রশ্ন গ্রাহকের উপর চার্জ বসবে কি না, তা নয়। বরং বিশাল UPI ব্যবস্থাকে কীভাবে একটি রাজস্ব মডেলে আনা হবে এবং সেই ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যাঙ্ক, TPAP ও পেমেন্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে কীভাবে ভাগ হবে, সেটিই এখন বড় বিষয়।
