নয়া দিল্লি : কেঁপে উঠল পাহাড়। রাতে আতঙ্কে ভাঙল ঘুম। কেঁপে উঠল ভারতের এই রাজ্য। একবার নয়। দফায় দফায়। বারবার। তবে ভোরের ভূমিকম্পটির ধাক্কা ছিল সবথেকে বেশি। ৫.১ মাত্রার ।
বৃহস্পতিবার কেঁপে ওঠে অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং জেলা। বৃহস্পতিবার ভোরের এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.১। তার আগে প্রথমে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে ২.৮ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প হয়। সেটি অনেকেই বুঝে উঠতে যার গভীরতা ছিল মাত্র ৫ কিলোমিটার। এরপর রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে ৩.২ মাত্রার আরেকটি কম্পন ঘটে। ভোর ৪টা ৩৪ মিনিটে আবার ২.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। সেটিও ঘুমের মধ্যে অনেকে টের পাননি। কিন্তু ভোরে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-র তথ্য অনুযায়ী একটি মাঝারি মাপের ভূমিকম্প হয়। সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে কেঁপে ওঠে মাটি। এর কেন্দ্রস্থল ছিল পাঙ্গিন থেকে প্রায় ১১৬ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১১ কিলোমিটার গভীরে। রাজ্যের প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কম্পনের জেরে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
মূল কম্পনের পরও একাধিক আফটার শকের খবর পাওয়া গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে মাটির ৫ কিলোমিটার গভীরে ৩.৫ মাত্রার একটি কম্পন ঘটে। এটিকেই আফটারশক বলা হয়। অনেক সময় আফটারশকের তীব্রতা বেশিও হয়ে থাকে। কয়েক ঘণ্টা ধরে এলাকায় একের পর এক ভূকম্পন বা ‘সিসমিক সোয়ার্ম’-এর পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্বাভাবিক ভাবেই বড় বিপদের আশঙ্কায় রয়েছে এলাকার মানুষ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অরুণাচল প্রদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভারতের সিসমিক জোন-ভি-এর মধ্যে পড়ে । পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের জটিল ভূ-গাঠনিক ফল্ট লাইনের কারণে এই এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ফলে মাঝেমধ্যেই ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তাই এখনও এলাকায় আতঙ্ক কাটেনি।
হিমালয় তৈরির সময় থেকেই ইউরেশীয় ও ভারতীয় প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। যার জেরে এই দুই প্লেট বরাবর তৈরি হয়েছে অজস্র চ্যুতি ও খোঁচা। নিরন্তর ঘর্ষণের জেরে যে চ্যুতিগুলিতে শক্তিসঞ্চয় হচ্ছে। সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হলেই শুরু হয় ঝাঁকুনি।
( PTI সূত্রের খবর )
আরও পড়ুন : ১০ লক্ষেরও বেশি পরিবারের অ্যাকাউন্টে রাজ্য সরকারের এই টাকা, ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত…..কী জানালেন দিলীপ ঘোষ?
