Viral News: পাড়া-পড়শিকে গসিপ বেচে বিপুল আয়, দু’-দু’টি বাড়ি কিনে ফেললেন বৃদ্ধা, বললেন, ‘পরনিন্দা-পরচর্চা আমার রক্তে’


নয়াদিল্লি: কথায় আছে, ‘যা রটে, তার কিছুটা ঘটে’। এই প্রবাদই রোজগারের মাধ্যম হয়ে উঠল এক মহিলার। বার্ধক্য শারীরিক ভাবে দুর্বল করে তুললেও, মাথা খাটিয়ে রোজগারের অভিনব উপায় বের করে ফেললেন তিনি। অর্থের বিনিময়ে পাড়াপড়শিকে গসিপ চালানের কারবার ফেঁদে বসেছেন। আর সেই কারবার থেকেই দু’-দু’টি বাড়ি কিনে ফেলেছেন ওই মহিলা। (Gossip Business)

৬৭ বছর বয়সি মিরিয়ম কলম্বিয়ার আর্মেনিয়া শহরের বাসিন্দা। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন ঢের আগেই। কিন্তু সারাজীবন চাকরি করে বাড়িতে বসে যাওয়া পোষাচ্ছিল না একেবারেই। পাশাপাশি, আর্থিক অবস্থাও তেমন ছিল না। বিকল্প রোজগারের পথ খুঁজতে গিয়েই একদিন হঠাৎ বুদ্ধি খেলে যায়। পাড়া-পড়শির সঙ্গে বসে যে পরনিন্দা-পরচর্চা করেন, তা টাকার বিনিময়ে আসল জায়গায় চালান করে দেওয়ার কথা মাথায় আসে তাঁর। (Viral News)

আরও পড়ুন: ভারতকে শাস্তি দেওয়ার ভাবনা? ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবেন ট্রাম্প? বিল পাস হল আমেরিকার সেনেটে

পরনিন্দা-পরচর্চার জন্য এলাকায় আগে থেকেই পরিচিতি ছিলেন মিরিয়ম। তাঁকে দেখলেই অন্যের হাঁড়ির খবর জানতে বসে যেতেন অনেকে। তবে মিরিয়ম সিদ্ধান্ত নেন, বিনামূল্যে আর খবর চালান করবেন না তিনি। তাঁর মুখ থেকে কথা বের করতে হলে গাঁটের কড়ি খসাতেই হবে। তবে এহেন আবদার শুনে পিঠটান দেননি কেউই। বরং গোপন খবর সবার আগে পেতে টাকা দিতে রাজি হয়ে যান সকলেই। আর তাতেই ভাগ্য ফিরতে শুরু করে মিরিয়মের। 

কনটেন্ট ক্রিয়েটর লেডি ড্যানিয়েলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি নিজের ‘গসিপ ব্যবসা’র কথা তুলে ধরেন মিরিয়ম। জানান, বরাবরই পরনিন্দা-পরচর্চা পছন্দ করেন তিনি। নিজের সেই ‘প্যাশন’কেউ রোজগারে পরিণত করেছেন। এত রোজগার হয়েছে যে দু’-দু’টি বাড়ি কিনে ফেলেছেন। মিরিয়ম জানিয়েছেন, প্রত্যেক গসিপ পিছু ৫০০০ থেকে ১০০০০ পেসো (কলম্বিয়ার মুদ্রা) নেন তিনি, ভারতীয় মুদ্রা যা ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

আরও পড়ুন: লম্বা চুলেই বাজিমাত, গিনেস ওয়র্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠল ভারতীয় মহিলার, দীর্ঘ ১১ বছর কাঁচি ছোঁয়াননি

কী ভাবে গসিপের ব্যবসা শুরু করলেন মিরিয়ম? তিনি জানান,  গুজব বা খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিখুঁত কাজ করেন তিনি। গসিপ যাতে উপভোগ্য হয়, সেদিকেও নজর রাখেন। তাই যেখানেই যান সঙ্গে থাকে নোটবুক। আড়ি পেতে যা শুনতে পান, লিখে রাখেন তাতে। সংগ্রহ করেন প্রমাণ। প্রাপ্ত ছবিপত্রও রেখে দেন জমিয়ে, যাতে পরে প্রশ্ন উঠলেও যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণ পেশ করতে পারেন। গল্পের ছলে ভাল গসিপ শোনাতেও পারেন তিনি।

বাড়িতে রাখা একটি বুলেটিন বোর্ডও ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন মিরিয়ম। তাতে এদিক ওদিক ছবি আটকানো থাকতে দেখা যায়। হাতে লেখা নোট, অন্য় সামগ্রীও সংগ্রহে রাখেন। নিজের এক প্রতিবেশীর কিছু ছবিও রয়েছে তাঁর কাছে, যাতে ওই ব্যক্তির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রমাণ পেশ করতে পারেন তিনি। এক্ষেত্রে দু’দিক থেকেই তাঁর রোজগার। স্ত্রী-সন্তানদের কানে যাতে খবর না যায়, তার জন্য ওই ব্যক্তি টাকা দেন মিরিয়মকে। আবার ওই ব্যক্তির স্ত্রীরও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। মুখ বন্ধ রাখতে মিরিয়মকে টাকা দেন তিনিও। একবার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক লুকোতে এক পড়শি তাঁকে প্রায় ২১০০০ টাকা দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মিরিয়ম। আবার  হুমকি-হুঁশিয়ারির মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। 

তবে পরনিন্দা-পরচর্চা ভালবাসেন বলে তাঁর যে নীতিবোধ নেই, তা নয় বলে দাবি করেছেন মিরিয়ম। তাঁর কথায়, “আমি প্রমাণ ছাড়া কোনও দাবি করি না।” এলাকার লোকজন তাঁর নাম রেখেছেন ‘ক্যুইন অফ গসিপ’। সপ্তাহে কত রোজগার হয়, তা বোঝাতে ক্য়ামেরার সামনে একটি বড় আকারের পিগি ব্যাঙ্ক তুলে ধরেন মিরিয়ম, যাতে ঠেসে রাখা ছিল কয়েন এবং নোট। প্রত্যেক সপ্তাহে ওই পিগি ব্যাঙ্ক ভরে যায় বলে দাবি তাঁর। 

পরনিন্দা-পরচর্চা করে রোজগার নিয়ে আফশোস নেই মিরিয়মের। তাঁর বক্তব্য, “গসিপই আমার জীবন। আমার রক্তে আছে। শুধু তো আমারই জীবন চলছে না। পাড়াপড়শিরাও উপকৃত হচ্ছেন। গসিপ থেকে টাকাও আসছে।” মিরিয়মের দাবি, গসিপ ছাড়া দুনিয়া চলতে পারে না। প্রত্যেক পাড়ায় ব্যবসার সুযোগ রয়েছে বলে বিশ্বাস তাঁর।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *