অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা : বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষের বাড়ি ও কার্যালয়ে হামলা ! তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়ি ও কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ। প্রথম বাড়ি, পরে কার্যালয়, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ। কার্যালয়ের বাইরে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যানার-পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ। পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে, অভিযোগ বিধায়ক কুণাল ঘোষের। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্ব রয়েছে তাঁর কার্যালয়। সেখানে ভরসন্ধ্যায় এভাবে হামলা চালাল কারা? কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি কি রয়েছে এই ঘটনার পিছনে? কুণাল ঘোষের কার্যালয়ের বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার ১২ অগস্ট সন্ধ্যায় ৮টার কিছু সময় পর প্রথমে কুণাল ঘোষের বাড়িতে যান বেশ কয়েকজন মহিলা এবং পুরুষ। সেখানে বিধায়ককে না পেয়ে বেলেঘাটা বিধানসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে কুণাল ঘোষের কার্যালয়ে যান ওই মহিলা এবং পুরুষের দল। এই কার্যালয়ে নিয়মিত বসেন বিধায়ক। সাধারণ মানুষের সাক্ষাৎ থেকে শুরু করে বিধায়কের যাবতীয় কাজকর্ম করেন এই কার্যালয় থেকেই। সেখানেই হামলার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী কার্যালয়ের বাইরে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টার, ব্যানারও ছেঁড়া হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। কার্যালয়ের বাইরে একটি ফ্লেক্স রয়েছে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের ছবি রয়েছে। এই ফ্লেক্সটি ছেঁড়া হয়েছে।
৩ কক্ষের পাকা বাড়ি থাকলে কি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা পাবেন ? স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
জানা গিয়েছে, প্রথমে কুণাল ঘোষের বাড়িতে যান ওই মহিলা-পুরুষের দল। সেখানে বিধায়ককে না পেয়ে স্থানীয় একটি ক্লাবে যেখানে কুণাল ঘোষ প্রায়ই বসেন, সেখানে যান ওই মহিলা এবং পুরুষরা। কুণাল ঘোষের নামে নানা ধরনের অভিযোগ করতে থাকেন তাঁরা। কখনও বলেন তিনমাস ধরে বিধায়ককে পাওয়া যাচ্ছে না, সই করাতে এসে কুণাল ঘোষকে পাওয়া যাচ্ছে না, কখনও বলেন রাস্তা খারাপ। এরপর সেখানে থেকে কুণাল ঘোষের কার্যালয়ের সামনে চলে যান বিক্ষোভকারীরা। সেখানে গিয়ে হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর করা হয়।
এই ঘটনায় বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলছেন, ‘পুলিশ এটা সিরিয়াস ভাবে নিচ্ছে না, অথবা ওদের সিরিয়াসলি না নিতে নির্দেশ দেওয়া আছে। পরিকল্পিত হামলার একটা চেষ্টা হচ্ছে। যেহেতু আমাদের মাথা নত করানো যায়নি, আত্মসমর্পণ করানো যায়নি, বালিশ শিবিরেও নাম লেখাইনি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছি… অর্গানাইজড ভাবে আমায় হিট করার চেষ্টা হচ্ছে। ২০ তারিখ মাঝরাতেও হয়েছে। আমি সেগুলো সবসময়েই কখনও নিজে লিখেছি, কখনও ফেসবুকে, কখনও এক্স- এ কলকাতা পুলিশকে ট্যাগ করে লিখেছি, দেখা যাচ্ছে তারা আমাদের এলাকার লোকই নয়। অপেক্ষা করছিল, তারপর সন্ধেবেলা হামলা চালিয়েছে। যারা এসেছে তারা একটা পরিকল্পিত টার্গেট করে এসেছে, তারা সইয়ের জন্য আসেনি, কারণ আমার এখানে সই পড়ে থাকে না। অমুক রাজনৈতিক দল করেছে সেটা আমি বলছি না। কিন্তু অমুক রাজনৈতিক দলের সাহায্য নিয়ে কেউ করতে পারে, যাদের আমার সক্রিয়তায় অসুবিধা হচ্ছে…’
