কলকাতা: দীর্ঘদিন পরে, বাংলা ছবির মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করছেন পাপিয়া অধিকারী (Papiya Adhikari), সোমনাথ সেন পরিচালিত সিনেমা, ‘পাখির বাসা’-তে অভিনয় করতে দেখা যাবে, পাপিয়া অধিকারীকে। একটা সময়ে তাঁকে সিনেমায় মুখ্যভূমিকায় সুযোগ দেওয়া হত না তাঁকে, ছবির পোস্টারে নাম, ছবি পর্যন্ত ব্যবহার করা হত না তাঁর। তাতে নাকি সিনেমা মুক্তিতে সমস্যা হত। ‘পাখির বাসা’ ছবিটির শ্যুটিং বেশ অনেকদিন আগে হলেও, ছবিটি এখন মুক্তি পাচ্ছে। নতুন ছবি মুক্তির আগে, পুরনো সময় নিয়ে কথা বললেন পাপিয়া অধিকারী। কথা বললেন, আগামীর পরিকল্পনা নিয়েও।
মুখ্যচরিত্রে অভিনয় নিয়ে অকপট পাপিয়া অধিকারী
এই সিনেমায় কাজ নিয়ে পাপিয়া অধিকারী বলছেন, ‘এর মধ্যে মানুষ আমায় পর্দায় দেখলেও, আমার মুখ পোস্টারে রাখা হয়নি। তাতে যদি ছবি মুক্তির সমস্যা হয়.. নন্দন বা অন্যান্য সরকারি জায়গায় আমাদের ছবি মুক্তি পেতে দেওয়া হয়নি। আইনক্সেও থাকেনি.. কেন থাকেনি জানি না। এখন হয়তো আর সেটা হবে না। নজরুল তীর্থ অনেকটা দূরে, সেখানে হয়তো কিছু কিছু ব্যানার পোস্টারে আমার ছবি দেখা গিয়েছে। আমার বন্ধুরা ইতিমধ্যেই আমায় নিয়ে বেশ কিছু ছবি করেছে। সোমনাথ সেনের ‘পাখির বাসা’ তেমনই একটি ছবি। সদ্যই মুক্তি পাচ্ছে সেটা। বিধায়কের দায়িত্ব এখন এত বেশি যে, সমানতালে অভিনয় চালাতে পারছি না। এতরকম কাজ হচ্ছে… তাতে সারাদিন সময় চলে যাচ্ছে। বহু মানুষের বহু অভিযোগ রয়েছে। প্রচুর কাজ রয়েছে তাই এখনই শ্যুটিংয়ে যোগ দিতে পারছি না। সেপ্টেম্বরের আগে পুরোপুরি অভিনয় শুরু করা অসম্ভব। অনেক জায়গাতেই মুখ্যচরিত্রে অভিনয়ের অফার পাচ্ছি। অনেকে বাড়িতে চিত্রনাট্য ও রেখে গিয়েছেন। খারাপ লাগে এটাই যে, একজন দাপুটে অভিনেত্রীকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। যাঁরা এখন চরিত্রের অফার নিয়ে আসছেন, তাঁরা আগেও জানতেন যে, আমি এই কাজটি করতে পারি। কিন্তু যদি মুক্তির জন্য সমস্যা হয়, সেই কারণে তাঁরা তখন আসতে পারেননি আমার কাছে। দিন বদলেছে। আশা করি, বাংলা ছবি আবার পাপিয়া অধিকারীকে নিজের মতো করে ফিরে পাবে।’
যাত্রার মঞ্চে ফের দেখা যাবে পাপিয়া অধিকারীকে?
একটা সময়ে, যাত্রায় দাপিয়ে অভিনয় করেছেন পাপিয়া অধিকারী, বিধায়ক হওয়ার পরে তিনি তাঁকে আবার পুরোদস্তুর যাত্রায় দেখা যাবে? অভিনেত্রী বিধায়ক বলছেন, ‘২৩ বছর যাত্রায় অভিনয় করেছি আমি। প্রতি বছরই আমার কাছে যাত্রার অফার আসত। কিন্তু আমি বলেছিলাম, ‘আমায় নেবেন না, মারামারি হবে, আপনাদের মঞ্চ ভেঙে দেবে।’ এসব তো ওরা করার জন্য মুখিয়েই ছিল। প্রচুর যাত্রার অফার এখনও এসেছে, কিন্তু এখনই সেটায় আমি রাজি হতে পারছি না। যাত্রা তো রোজকার ব্যাপার, ১০০ থেকে ১৫০টা শো অন্তত, আমি তো এভাবেই অভিনয় করতাম। সেটা এখন সম্ভব নয়। প্রাক্তন সরকারের সাংসদেরা কীভাবে করতেন, সেটা আমার কাছে একটা মস্ত জিজ্ঞাসা। তাহলে কি তাঁদের বিধায়ক, সাংসদের কাজে সাহায্যের জন্য প্রচুর মানুষ ছিল? কারণ আমি তো দেখছি, সরকারি কাজ ছেড়ে দেড়শো পালার শো করা প্রায় অসম্ভব। জানি না তাঁরা কীভাবে করতেন।’
