নদিয়া: রিয়েল নয়, এ যেন রিল। একেবারে ফিল্মি কায়দায় শ্যুটআউট কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে। অন্ধকারে রাস্তা আটকে পরপর গুলি। গাড়িতে থাকা বাবা-ছেলেকে ঝাঁঝরা করে দিল দুষ্কৃতীরা। নৃশংসভাবে খুন করা হল কংগ্রেসের নদিয়ার জেলা সহ সভাপতি আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান রহমানকে। আর এই ঘটনা ঘিরেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল নদিয়ার নাকাশিপাড়ায়। ইতিমধ্যে খুনের অভিযোগে স্থানীয় তৃণমূল পরিচালিত হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবি এবং তাঁর দুই সহযোগী সাহেব মুহুরি ও মিঠু শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় শুরু হল রাজনৈতিক তরজা। রাজনৈতিক শত্রুতায় খুন, দাবি মৃতের পরিবারের। তৃণমূলের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে কংগ্রেস। পাল্টা জবাব দিয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির।
শনিবার রাত ৯টা, বেথুয়াডহরি থেকে গাড়ি করে বাড়ি ফিরছিলেন সপুত্র কংগ্রেস নেতা। পুলিশ সূত্রে দাবি, নাকাশিপাড়ায় বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে, নাগাদি রেলগেটের কাছে আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিল দুষকৃতী দল। আন্ডার পাসের ঠিক বাইরেই দাঁড়িয়েছিল একটি কালো রঙের স্করপিও। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কংগ্রেস নেতার গাড়ি আন্ডারপাস থেকে বেরোতেই আচমকা হামলা চালায় দুষকৃতীরা। কংগ্রেস নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে ছুটে আসে এলোপাথাড়ি গুলি। এই গাড়িতে গুলি চালানোর দাগ এখনও স্পষ্ট। এছাড়া গাড়ির গায়েও গুলির দাগ রয়েছে। কাচ ভাঙা। ভিতরে রক্তের দাগ। রক্তাক্ত অবস্থায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে বেথুয়াডহরি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলের মৃতদেহ কল্যাণী জেএনএম মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে পুলিশ।
রাত ১টা নাগাদ বেথুয়াডহরি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। নাকাশিপাড়া থানার IC পৌঁছলে, তাদের সঙ্গেও শুরু হয় বাগবিতণ্ডা। ঘটনা নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ”এইভাবে কী করে খুন হল? গোয়েন্দা বিভাগ একেবারে ব্যর্থ। তার কারণ এটা একদিনের চিন্তাধারার খুন নয়। প্ল্যানমাফিক মার্ডার।” পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগের তীর সরাসরি তৃণমূলের দিকে। নিহত কংগ্রেস নেতার শ্বশুর বলেন, ”এটা শত্রুতার কারণ। রাজনৈতিক ব্যাপার। তৃণমূল এখানে সন্ত্রাস করে করে আছে।” তিনি আরও জানান যে, এই কাজ প্রধানের স্বামীর। নিহত কংগ্রেস নেতার এক আত্মীয় বলেন, ”বোনাইকে জব্বারের হিংসে করত। ও কেন করছে, আমি পারছি না। সেই জব্বার লোক দিয়ে ওকে খুন করিয়ে দিল গো। আমি মেনে নিতে পারব না।”
আরও পড়ুন – ফের রক্ত ঝরল বঙ্গে ! নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে নৃশংসভাবে খুন
কংগ্রেস নেতা খুনে গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে। এরপর মুখ খোলে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেন যে, ”তৃণমূলের যখন সরকার ছিল, তখন কী বলা হত? অস্ত্র এল কোথা থেকে? কেন খুন হবেন দুজনে? তৃণমূল নিজে মার খেয়ে কোণঠাসা। হয় বিজেপি, নয় ভাল তৃণমূল বলে যাদেরকে দেখানো হচ্ছে।”
