নয়াদিল্লি: স্কুলের প্রধান শিক্ষকের লালসার শিকার নাবালিকা। মাসের পর মাস নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ। অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গর্ভপাতও করাতেও নিয়ে যাওয়া হয় নাবালিকাকে। আর তাতেই বেঘোরে মারা যায় ১৪ বছরের মেয়েটি। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে এমনই ভয়ঙ্কর ঘটনা সামনে এসেছে। জনজাতি সম্প্রদায়ের কন্যা ওই নাবালিকার মৃত্যুতে কেন তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতি ধারায় মামলা করল না পুলিশ, উঠছে প্রশ্ন। সেই নিয়ে তাদের নোটিস ধরাল জাতীয় জনজাতি কমিশন। গোটা ঘটনায় কার্যত ফুঁসছে উপত্যকা। ফাঁসির সাজার দাবি উঠছে। (Kishtwar Minor Girl Assaulted)
জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতোয়ারের চত্রূ এলাকার ঘটনা। স্থানীয় সরকারি স্কুলে পাঠরত ছিল মেয়েটি। জানা গিয়েছে, ছ’মাস আগে প্রথমবার তাকে ধর্ষণ করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক খালিদ হুসেন। লাগতার অত্যাচার চলছিল মেয়েটির উপর। সম্প্রতি জানা যায়, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। এর পর নিজের ভাইয়ের সাহায্য়ে মেয়েটিকে গর্ভপাত করাতে নিয়ে যায় সে। কিন্তু ছ’মাসের ভ্রূণ নষ্ট করতে গিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। গত বৃহস্পতিবার মারা যায় মেয়েটি। পরে মেয়েটির দেহ গ্রামে পৌঁছলে বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্রমশ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে অন্যত্রও। (POCSO Case)
আরও পড়ুন: জলপ্রলয়ে বিধ্বস্ত নেপাল, ভূমিকম্প না তুষার-পাথর ধস, বিপর্যয়ের আসল কারণ কী, জানালেন বিজ্ঞানীরা
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সপ্তাহ দুয়েক আগে পেটে যন্ত্রণা হচ্ছিল মেয়েটির। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে জানা যায় সে অন্তঃসত্ত্বা। এর পর মা-বাবাকে গোটা ঘটনা খুলে বলে সে। প্রথমে টাকা দিয়ে পরিবারের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। মেয়েটির পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। এর পর বুধবার, মেয়েটিকে কার্যত অপহরণ করে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় তারা। মেয়েটির বাবা এবং কাকাও পৌঁছলে অন্য একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় মেয়েটিকে। অস্ত্রোপচার করে গর্ভ থেকে ভ্রূণ বের করে আনার চেষ্টা হয় সেখানে। তাতেই মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে শুরু করে। মৃত সন্তান প্রসব করে সে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল মেয়েটিকে। কিন্তু রাস্তাতেই মারা যায় সে।
গোটা ঘটনায় অপরাধমূক ষড়যন্ত্র, অনূর্ধ্ব ১৬ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ, গর্ভপাতের দরুণ মৃত্যু, গর্ভের শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী, যৌন নির্যাতন, মৃত্যুতে প্ররোচনা-সহ POCSO ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু জনজাতি সম্প্রদায়ের মেয়ের সঙ্গে ওই ঘটনায় কেন তফসিলি জনজাতি ধারায় মামলা করা হল না, প্রশ্ন উঠছে। সেই মর্মে নোটিস পৌঁছেছে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের কাছে। জবাব চাওয়া হয়েছে মুখ্যসচিব, ডিজি এবং কিশতোয়ারের এসএসপি-র। কেন জনজাতি ধারা প্রয়োগ করা হয়নি, তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন ট্রাইবাল গুজ্জর বাকেরওয়াল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের কবীর আহমেদ।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক, মেয়েটির গর্ভপাতে সাহায্য় করা তার ভাই-সহ আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এই ঘটনায়। ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন স্থানীয় মানুষজন। দোষীদের মৃত্যুদণ্ড চাইছেন তাঁরা। একজন বলেন, “একটা বাচ্চা নেয়ে। ওই বয়সি মেয়েরা শারীরিক সম্পর্ক বোঝেই নায আমরা চাই প্রকাশ্য রাস্তায় ফাঁসি দেওয়া হোক দোষীদের। কোনও ভাবেই রেয়াত করা যাবে না। বিচারবিভাগ কঠোর পদক্ষেপ করুক, যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।” সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলছেন আন্দোলনকারীরা।
