কলকাতা: নুডলস পড়ে রয়েছে কারখানার মেঝেতে। আর সেই নুডলসই ফের ব্যবহার করা হচ্ছে ভুজিয়া তৈরিতে! তাও আবার কোনও হিট ট্রিটমেন্ট ছাড়াই। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল জনপ্রিয় Wai Wai ব্র্যান্ডের প্রস্তুতকারক সংস্থা CG Foods India-র বিরুদ্ধে। রাজস্থানের-এর আজমীর-এর রূপনগরে সংস্থার কারখানায় অভিযান চালিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে Food Safety and Standards Authority of India বা FSSAI। এরপরই ওই ইউনিটে Veg Bhujia Namkeen-এর উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
FSSAI-এর অভিযানের পর এখন প্রশ্নের মুখে Wai Wai-এর তৈরি খাবারের মান এবং কারখানার খাদ্য-নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে শুরুতেই একটা বিষয় পরিষ্কার—ভারতে পুরো Wai Wai noodles নিষিদ্ধ হয়নি। FSSAI-এর পদক্ষেপ মূলত নির্দিষ্ট কিছু Veg Bhujia Namkeen পণ্যের উৎপাদন ঘিরে।
মেঝে থেকে কুড়িয়ে নুডলস, তারপর ভুজিয়া!
FSSAI-এর দাবি, রূপনগর-এর ওই উৎপাদন কেন্দ্রে ভেঙে যাওয়া নুডলসের একটি অংশ কারখানার মেঝে থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছিল। এরপর সেই নুডলসই ভুজিয়া তৈরির প্রক্রিয়ায় ফের ব্যবহার করা হচ্ছিল। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, এই পুনর্ব্যবহারের আগে নুডলসগুলিকে প্রয়োজনীয় হিট ট্রিটমেন্ট করা হয়নি।
অর্থাৎ, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভেঙে যাওয়া নুডলস মেঝেতে পড়ে যাওয়ার পর সেগুলিকে সরাসরি ফের খাদ্যপণ্যে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। খাদ্য-নিরাপত্তার দিক থেকে এই বিষয়টিকেই অত্যন্ত গুরুতর বলে দেখছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
৩২ হাজার কেজির বেশি স্টক বাজেয়াপ্ত
অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ স্টক আটক করেছে FSSAI। নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩২,১০৭.২ কেজি স্টক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ছড়ানো ছিটানো এবং ভাঙা নুডলস-ও।
শুধু তাই নয়, কারখানা থেকে ১,৯২৫টি মেয়াদত্তীর্ণের বাক্সও আটক করা হয়েছে। ওই পণ্যগুলির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্ট এবং পরিদর্শনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
লাইসেন্স ছাড়াই তৈরি হচ্ছিল ভুজিয়া?
FSSAI-এর অভিযানে শুধু স্বাস্থ্যবিধির সমস্যা নয়, লাইসেন্স সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, ‘Wai-Wai MaMa’ এবং ‘Wai-Wai Mama Punte’ নামে দু’টি ভুজিয়া ভ্যারিয়েন্টের উৎপাদন প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই করা হচ্ছিল।
FSSAI জানিয়েছে, এই বিষয়টি Food Safety and Standards Act, 2006-এর Section 31(1)-এর সরাসরি লঙ্ঘন। অর্থাৎ, যে ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে, তার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক।
প্যাকেটের তারিখ নিয়েও প্রশ্ন
অভিযানে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে—predated packaging dates ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে FSSAI। অর্থাৎ, পণ্যের প্যাকেজিংয়ের তারিখ নিয়েও নিয়ম ভাঙার অভিযোগ রয়েছে।
এর পাশাপাশি কারখানায় pest-control records-এর ঘাটতি, খাদ্য-স্বাস্থ্যবিধি এবং নথিপত্র সংক্রান্ত আরও বেশ কিছু ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে শুধু একটি পণ্যের উৎপাদন নয়, গোটা উৎপাদন ব্যবস্থার compliance নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ
এই সমস্ত অভিযোগ সামনে আসার পর CG Foods India-কে প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত Veg Bhujia Namkeen-এর উৎপাদন বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে FSSAI। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ঘটনাটির কেন্দ্রে রয়েছে Wai Wai ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট ভুজিয়া পণ্য এবং Rajasthan-এর সংশ্লিষ্ট উৎপাদন কেন্দ্র। তাই ‘Wai Wai noodles নিষিদ্ধ’—এমন দাবি করলে তা বিভ্রান্তিকর হবে।
নজরে Binod Chaudhary-র সংস্থা
Wai Wai ব্র্যান্ডটি Nepal-এর ব্যবসায়ী তথা শিল্পপতি Binod Chaudhary-র নেতৃত্বাধীন Chaudhary Group-এর সঙ্গে যুক্ত। ভারতে Wai Wai noodles-এর পাশাপাশি সংস্থার অন্যান্য খাদ্যপণ্যও বাজারে রয়েছে। সেই জনপ্রিয় ব্র্যান্ডেরই একটি উৎপাদন কেন্দ্রে FSSAI-এর এই অভিযান স্বাভাবিকভাবেই বড় ধাক্কা।
এখন নজর থাকবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্ট এবং FSSAI-এর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিযানে বাজেয়াপ্ত বিপুল পরিমাণ স্টকের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অভিযুক্ত সংস্থার বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা হয় এবং সংশ্লিষ্ট উৎপাদন কেন্দ্র ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও খাদ্য-নিরাপত্তার নিয়ম মেনে উৎপাদনে ফিরতে পারে কি না—সেদিকেই নজর থাকবে।
খাবারের প্যাকেটে পরিচিত নাম থাকলেই যে তা নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তা নেই। খাদ্য উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলাই শেষ কথা। Wai Wai-এর এই ঘটনায় সেই প্রশ্নটাই ফের সামনে এনে দিল FSSAI-এর অভিযান।
Suvendu Adhikari:’ফ্রি প্যালেস্তাইন লিখলে, কেন লিখবেন না ফ্রি পিওকে?’ কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
