Headlines

Bengal Cricket: বয়স ভাঁড়িয়ে কেউ নির্বাসিত, কাউকে ছাড়! বিতর্ক বাংলার ক্রিকেটে, কী যুক্তি দিল সিএবি?


সন্দীপ সরকার, কলকাতা: জল্পনা ছিলই। শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনকে মান্যতা দিয়ে বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে রোহিত যাদবকে। সেই রোহিত, যিনি বাংলার হয়ে খেলেছেন। যিনি প্রথমবার ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলে সুযোগ পাওয়ার পর ফলাও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিল, বিবৃতি দিয়েছিল সিএবি। পরে রোহিতের বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে সিএবি। তাঁকে দু’বছরের জন্য নির্বাসিতও করে। ভারতীয় বোর্ডকেও সেটা জানানো হয়। তারপরই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ান ডে ও মাল্টি ডে সিরিজের জন্য ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয় রোহিতকে। পরিবর্তে অন্য ক্রিকেটার নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিবৃতি দিয়ে সে কথা জানিয়েও দিল সিএবি।

আর সেখানেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ধোঁয়াশা। বয়স ভাঁড়ানোর জন্য প্রায় ৬৫ জন ক্রিকেটারকে ২ বছরের জন্য নির্বাসিত করেছে সিএবি। বয়স ভাঁড়ানোর মতো অপরাধ ও ভিন রাজ্যের ক্রিকেটারদের জাল পরিচয়পত্র বানিয়ে স্থানীয় ক্রিকেটার হিসাবে খেলার চক্র আটকাতে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছিল সিএবি। ঘটনা হল, সেই পদ্ধতি শুরু করে ঠক বাছতে গাঁ উজাড় হওয়ার উপক্রম হয়। দেখা যায়, প্রচুর ক্রিকেটারের নথিতে গরমিল। যদিও নথি যাচাই করে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬৫ জনকে নির্বাসিত করেছে সিএবি।

আর বিতর্ক তৈরি হয়েছে ঠিক এই জায়গাতেই। কারণ, নির্বাসিত সকলেই ভিন রাজ্যের ক্রিকেটার। যাঁরা স্থানীয় পরিচয়ে খেলছিলেন। কিন্তু সিএবি সূত্রে খবর, গোলমেলে নথি, বয়স ভাঁড়ানো ইত্যাদি কারণে বিশাল সংখ্যক ক্রিকেটার ধরা পড়েছেন। তাঁদের বেশিরভাগই স্থানীয় ক্রিকেটার। তাঁদের ক্ষেত্রে নির্বাসিত করার মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হল না কেন? তাঁদের ক্লাব ক্রিকেটে খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হল কেন? বয়স ভাঁড়ানো নিয়ে এক-একজন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে আলাদা-আলাদা নিদান কেন?

ক্রিকেটারদের তথ্য যাচাই করার এই বিশাল প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরকমই এক সিএবি কর্তা এবিপি আনন্দকে বললেন, ‘এটা ঠিক যে, দুরকম অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বাইরের যে সমস্ত ক্রিকেটার, যাঁরা স্থানীয় পরিচয়পত্রে খেলছিলেন, তাঁদের ২ বছর নির্বাসিত করা হয়েছে। সিএবি থেকে ঠিক করা হয়েছিল, ২০২২ সালের ৩১ অগাস্টের পর নথিবদ্ধ যে সমস্ত ক্রিকেটারদের সমস্যা দেখা গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেই শাস্তি দেওয়ার পথে হাঁটা হবে।’

কিন্তু স্থানীয় ক্রিকেটারদের ছাড়পত্র দেওয়া হল কেন? বয়স ভাঁড়ানোর অপরাধ তো সকলের ক্ষেত্রেই সমান, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও এ ব্যাপারে ভীষণ কড়া। তাহলে সিএবি ভিন্ন অবস্থান নিল কেন?

নাম প্রকাশ করা যাবে না, সেই শর্তে সিএবি-র ওই কর্তা ব্যাখ্যা দিলেন, ‘এর নেপথ্যে অনেকগুলি কারণ আছে। এক, স্থানীয় ক্রিকেটারদের ধরলে, বয়স ভাঁড়ানোর সংখ্যাটা বিশাল হয়ে দাঁড়াবে। সকলকে বাদ দিলে, ক্লাবগুলি সমস্যায় পড়বে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ডিভিশনের দলগুলি, যাদের বাইরের প্লেয়ার খেলানোর সুযোগ নেই। দুই, প্রত্যেক ক্রিকেট সংস্থাই ভূমিপুত্রদের ক্ষেত্রে সহানুভূতিশীল। সিএবিও ব্যতিক্রমী নয়। এত বিরাট সংখ্যক ক্রিকেটারকে বাদ দিলে বঙ্গসন্তান ক্রিকেটারদের পাওয়াই তো দুষ্কর হয়ে যাবে। তিন, সিএবি গোটা পদ্ধতিটা শুরু করেছিল মে মাসে। এত অল্প সময়ে এত বিশাল সংখ্যক ক্রিকেটারদের ছেঁটে ফেললে ক্লাবগুলির দলগঠন হবে কী করে? তাই সকল ভূমিপুত্রদের ক্লাব ক্রিকেটে খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।’

সিএবির একটি ১০ সদস্যের ভেরিফিকেশন সেল রয়েছে। সিএবি-রই একাংশ প্রশ্ন তুলছে, এত বড় ভেরিফিকেশন সেল থাকার পরেও এত বিপুল সংখ্যক ক্রিকেটার নথিতে জালিয়াতি করলেন কীভাবে? বয়স ভাঁড়িয়ে বা পরিচয়পত্র জাল করেও খেলে চলা ক্রিকেটারদের কেন এতদিন ধরা হয়নি?

কেউ কেউ অন্য অভিযোগও করছেন। সিএবি-রই একাংশ বলছে, সামনেই বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থায় নির্বাচন। অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই স্থানীয় ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে নমনীয় সিএবি। যাতে স্থানীয় ক্লাবগুলি বিরূপ না হয়ে পড়ে। যদিও ওই কর্তা বললেন, ‘এর সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। সিএবি শুধু চেয়েছে ভূমিপুত্রদের ক্ষেত্রে নমনীয় হতে। যে কোনও ক্রিকেট সংস্থাই ভূমিপুত্রদের পাশে থাকে।’

মাঝে শোনা যাচ্ছিল, যাঁদের নথিতে সমস্যা ধরা পড়েছে, তাঁদের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলতে দেওয়া হবে না, কিন্তু বাংলার সিনিয়র দলে খেলতে সমস্যা থাকবে না। যদিও সিএবি-র ওই কর্তা তা মানলেন না। বললেন, ‘ছাড় দেওয়া হচ্ছে শুধু স্থানীয় ক্লাব ক্রিকেট খেলায়। বাংলার কোনও দলে ২ বছর প্রতিনিধিত্ব করতে দেওয়া হবে না। রাহুল প্রসাদের উদাহরণ দেব। ওঁর বয়স নিয়ে গরমিল ধরা পড়েছে। ও তো বাংলার সিনিয়র দলে খেলেছে। এবার নেই।’ যোগ করলেন, ‘অন্তত এ বছর আমরা ভূমিপুত্রদের ক্লাব ক্রিকেটে খেলতে দিচ্ছি।’

কিন্তু এবার যাঁদের বয়সের গরমিল, পরের মরশুমেও তো সেটা থেকে যাবে। তাহলে পরের মরশুমেই বা সঠিকভাবে ঝাড়াই বাছাই হবে কী করে? গোড়ায় গলদ তো থেকে যাচ্ছেই? সিএবি-র ওই কর্তা বলছেন, ‘পরের মরশুমে কী হবে সেটা সিএবি পদাধিকারীরা তখন সিদ্ধান্ত নেবেন।’

প্রশ্ন উঠছে বিকাশ সিংহ নামের এক ক্রিকেটারকে নিয়েও। বিকাশ বাংলার অনূর্ধ্ব ২৫ দলে খেলেছিলেন (করোনাকালে অনূর্ধ্ব ২৩ বিভাগের বদলে অনূর্ধ্ব ২৫ টুর্নামেন্ট করেছিল বোর্ড)। অভিযোগ, বিকাশের নথিতে গরমিল থাকলেও প্রথমে তাঁকে ছাড়পত্র দিয়েছিল সিএবি। ক্লাবে সই করার যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। যা নিয়ে বিতর্ক হয়। সিএবি-রই একাংশ থেকে প্রশ্ন ওঠে, সিএবি-র বিদায়ী সচিব বাবলু কোলের ক্লাব কালীঘাটে খেলেন বলেই কি ছাড় দেওয়া হয়েছে বিকাশকে?

যদিও পরে বিকাশের নাম বাদ দেয় সিএবি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্তা বললেন, ‘বিকাশ সিংহ ও গৌরব সিংহ চৌহান, দুজনই বাংলার অনূর্ধ্ব ২৫ দলে খেলেছিলেন। সেটা নিয়ে একটা সংশয় ছিল যে, অনূর্ধ্ব ১৬, ১৯ কিংবা ২৩ দলে খেলা ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেই বয়স ভাঁড়ানো প্রযোজ্য হবে কি না। কারণ, অনূর্ধ্ব ২৫ বিভাগটাই এখন নেই। তবে পরে বিকাশদেরও নির্বাসিতই করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন: ক্রিকেট মাঠে ভারত বনাম জাপান! ঐতিহাসিক ম্যাচের ঘোষণা, কবে-কোথায় হবে খেলা?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *