শিলিগুড়ি: নেপাল বিপর্যয়ের পর আজই উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কালিম্পং ও শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। নেপাল বিপর্যয়ের পর চরম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাতেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগেভাগে ময়দানে নামছে রাজ্য সরকার। পাহাড়ের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আজই উত্তরবঙ্গ সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে খারাপ আবহাওয়ার জের, কালিম্পংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার অবতরণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কালিম্পংয়ের আকাশ থেকে ফিরে গেল মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার। মেঘের চাদরে কালিম্পংয়ের ডুরপিন হেলিপ্যাড। ভার্চুয়ালি বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
সফরসূচি অনুযায়ী, বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে মুখ্যমন্ত্রী চলে যাবেন কালিম্পংয়ে। কালিম্পং টাউন হলে পাহাড়বাসীর হাতে সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা তুলে দেবেন। সারবেন প্রশাসনিক বৈঠক। কালিম্পং মেডিক্যাল কলেজের জমি পরিদর্শন করতে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। হেলিকপ্টারে কালিম্পং থেকে ডাবগ্রাম ভিডিওকন হেলিপ্যাডে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’-য় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করবেন।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান হয়েছিল। যার ফলে প্রচুর মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। হাজারের ওপর মানুষ এখনও নিঁখোজ। হিমালয়ের লাংটাং জাতীয় উদ্যান ও নেপাল-চীন সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ও সুবিশাল শিলার ধস নামে। এর ফলে ভোটে কোশী ও ত্রিশূলী নদীতে প্রলয়ঙ্করী হড়পা বান হয় ও কাদা-পাথরের ধস সৃষ্টি হয়।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ১,৩০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে ও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের ত্রিশুলি বাজার এলাকা থেকে আরও ৩ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫ বছরের একটি শিশুও রয়েছে। এর ফলে নেপাল থেকে উদ্ধার করে আনা ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৯ জন। এখনও ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে গতকাল জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
এদিকে, এই সবের মধ্যেই মিরাক্যাল দেখা গিয়েছিল। বিপর্যয়ের ৯ দিন পর নেপালের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হলেন ২ কর্মী। প্রশাসন সূত্রে দাবি, তাঁদের নাম সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন। এতদিন ত্রিশূলির হাইড্রোপাওয়ার প্রোজেক্টের সুড়ঙ্গেই আটকা পড়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের মধ্য়ে কবীর মহারজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মেকানিক্যাল সুপারভাইজার ছিলেন। অন্য়দিকে, সঞ্জয় শাহ ছিলেন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ফোরম্যান।
Bye Election in Nandigram: পুজোর আগেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন ঘোষণা কমিশনের
