JLR Layoffs : ছাঁটাইয়ের জল্পনা ঘিরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল আগেই। এবার সেই আতঙ্কই সত্যি হল। ৪০০০ কর্মী ছাঁটাই করবে টাটার (Tata JLR Layoffs) অধিনস্থ কোম্পানি জাগুয়ার ল্যান্ডরোভার (JLR)। কোম্পানির তরফে ছাঁটাইয়ের বিষয়টি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে।
কারা সমস্যা পড়বে এই ছাঁটাই পর্বে ?
ব্রিটিশ এই বিলাসবহুল গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি জানিয়েছে, আগামী ২ বছরের মধ্যে ৪০০০ কর্মী ছাঁটাই করবে তারা। তবে সরাসরি গাড়ি তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, এমন ব্যক্তিদের চাকরি যাবে না। বরং, যাদের অবসরের সময় সামনে এসে গেছে তাদের স্বেচ্ছায় অবসরের প্রস্তাব দিয়েই এই কাজ করা হবে।
ছাঁটাইয়ের বিষয়ে কী বলেছে কোম্পানি
ইতিমধ্যেই কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে মুখ খুলেছে কোম্পানি। JLR-এর তরফে বলা হয়েছে, যে কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে, তাদের ক্ষতিপূরণের যাবতীয় ব্যবস্থা করা হবে। প্রথম পর্বের ছাঁটাই নিয়ে আলোচনায় বসা হয়েছে। আগামী দিনে এই বিষয়ে শ্রমিক সংগঠন ও কর্মী সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কী কারণে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কোম্পানি
গত ১৯ জুন ইনভেস্টার ডে-তে কোম্পানির পরিচালন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। তারপরই আগামী ২ বছরে ১.৭ বিলিয়ন পাউন্ড সঞ্চয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাগুয়ার ল্যান্ডরোভার। সেই পরিচালন কৌশল থেকেই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে কোম্পানি। সংস্থা তার ব্রেক-ইভেন বা আয়-ব্যয় সমতার পর্যায়টি ৩,০০,০০০ ইউনিটের দিকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে আগামী দুই বছরে প্রায় এই ১.৭ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করছে।
কোথায় বড় বাজার রয়েছে জাগুয়ারের
জেএলআরের (JLR) সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কোম্পানির মোট বিক্রির প্রায় ২৯ শতাংশ আমেরিকা থেকে আসে। যে কারণে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেনে তৈরি যাত্রীবাহী গাড়ি আমদানির ওপর নতুন করে আরও ১০% শুল্ক অতিরিক্ত বসানোর ঘোষণা করেছেন। এই অতিরিক্ত শুল্ক Jaguar Land Rover-এর বিক্রি ও মুনাফার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
আমেরিকা ও ব্রিটেনের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ লাখ ব্রিটিশ গাড়ি ১০% শুল্কে আমেরিকায় রফতানি করা যাবে। কিন্তু এই সীমা বা কোটা যদি পেরিয়ে যায়, তবে রিটেনে তৈরি গাড়ির ওপর শুল্ক বেড়ে ২৭.৫% হয়ে যাবে। ফলে নির্দিষ্ট সীমার বেশি গাড়ি আমেরিকায় রফতানি করা জেএলআরের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন : ভারতে ৬০০ কর্মী ছাঁটাই করল এই কোম্পানি, এই তিন শহরে সবথেকে বেশি প্রভাব
