মুম্বই: বক্সঅফিসে বিরাট সাফল্য পেয়েছে ‘ধুরন্ধর’ সিরিজ। দু’টি ছবি প্রায় ৩০০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। কিন্তু ছবি হিসেবে ‘ধুরন্ধরে’র গুণমান নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন পরিচালক তিগমাংশু ধুলিয়া। তাঁর দাবি, ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে গল্প বলে কিছুই নেই। বলিউডে গল্প বলার প্রবণতার মৃত্যু ঘটছে বলেও মন্তব্য করলেন তিনি। (Tigmanshu Dhulia on Dhurandhar)
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম আয়োজিত ‘The State of Media and Film Industry’ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন তিগমাংশু। সেখানেই ‘ধুরন্ধর’ ছবিটির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, “কেউ যদি ‘ধুরন্ধরে’র কাহিনি জানতে চায়, বলতেই পারবেন না। একটা লোক পাকিস্তাবে গিয়ে তাণ্ডব চালাল। এটা কাহিনি? ছবিতে কাহিনির মৃত্যু ঘটেছে। যাঁরা গল্প বলেন তাঁরাও শেষ, আর যাঁরা গল্প বলতে চান, তাঁদের বলার অনুমতি নেই। ভেবে বসেন ছবি চলবে না। তাই তাঁরাও একই পথ অনুসরণ করেন।” (Bollywood News)
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম, একধাক্কায় অনেকটাই, নতুন করে যুদ্ধ আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে
বলিউডে গল্পের যে আকাল, তার সঙ্গে পুঁজিবাদকে জুড়ে গিয়েছেন তিগমাংশু। তাঁর কথায়, “পুঁজিবাদের বাড়বাড়ন্ত ঘটলে এমনটাই হয়। একই রকম দেখায় সকলকে। আজকালকার ফ্যাশনই দেখুন। প্রত্যেকে একই রকম। চুলের ছাঁট একই রকমের। এমনকি শহরগুলিকেও হুবহু একরকম মনে হচ্ছে। প্রত্যেক শহরের যে আলাদা আলাদা চরিত্র থাকে, তা শেষ। আমার শহর এলাহাবাদ অনেক কিছুর জন্য পরিচিত ছিল। এখন অন্য শহরের মতোই লাগে। একই রকমের শপিং মল, একই রকমের গাড়ি। এই ধরনের পলিটিক্যাল সিস্টেম আপনার স্বকীয়তা নষ্ট করে দেয়।”
তিগমাংশুর কাজ বরাবরই সমাদর পেয়ে এসেছে। বিশেষ করে প্রয়াত ইরফান খানের সঙ্গে তাঁর যে যে কাজ করেছেন তিনি, সে ‘হাসিল’ হোক বা ‘পান সিং তোমর’, অসম্ভব প্রশংসা কুড়িয়েছে সেগুলি। খুব শীঘ্র মুক্তি পাচ্ছে তিগমাংশুর ছবি ‘ঘমাসান’। ছবিতে রয়েছেন আরশাদ ওয়ার্সি, প্রতীক গাঁধী। তবে ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা মনঃপুত হয়নি অনেকেরই। ‘আঙুর ফল টক’ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাই অনেকে কটাক্ষও করেছেন তাঁকে।
‘ধুরন্ধর’ ছবির পরিচালক আদিত্য ধর। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন রণবীর সিংহ। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন অক্ষয় খন্না, সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন, সারা অর্জুন, রাকেশ বেদী, গৌরব গেরা। ভারতীয় গুপ্তচরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর, যিনি পাকিস্তানে ঢুকে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসী শক্তিকে দুরমুশ করেন। দু’টি ছবি বক্স অফিসে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা ব্যবসা করে।
