নন্দীগ্রাম: পুজোর মণ্ডপে ঢাক বেজে ওঠার আগেই রাজ্যে ফের ভোটের বাদ্যি। ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, পুদুচেরির ৫ টি বিধানসভা এবং অসমের একটি লোকসভা আসনে। ওইদিন ভোট হবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা আসনে।
জোড়া আসনে ভোট হলেও, সবার নজর রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া নন্দীগ্রামের দিকেই। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা কেন্দ্রেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ হাজার ৯৫৬ ভোট হারান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।
চলতি বছরে সেই নন্দীগ্রামে ফের জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। এবার তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে হারিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ভবানীপুরে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল প্রার্থীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের অন্যতম আঁতুড়ঘর যে নন্দীগ্রাম। সেখানে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন আবু তাহের। পরে, নন্দীগ্রাম ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সহ সভাপতিও দায়িত্ব সামলেছেন। ৪ মে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে পর্যন্ত ছিলেন তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে সেই আবু তাহেরই এখন বেসুরো বাজছেন।
আরও পড়ুন:- দুর্গাপুজো না লিখলে বামেদের স্টলে না, মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো পোস্ট সামনে এনে পাল্টা আক্রমণে সিপিএম
তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘নন্দীগ্রাম আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক ভুল করেছি। আন্দোলন করতে গিয়ে এখানে অনেকে লাভবান হয়েছেন। নন্দীগ্রামের মানুষ কিন্তু লাভবান হয়নি। অ্য়াডভান্টেজ বিজেপির। যে কেউ বলবে। যিনি হচ্ছে বিরোধী দলনেতা ছিল, তিনি এখান থেকে দাঁড়িয়েছিলেন। যিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন, তিনি নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতায় আছে। অতএব নন্দীগ্রামে উন্নয়ন বলুন আর যাই বলুন, তিনিই দেখবেন। শুভেন্দু অধিকারীর পাশে নন্দীগ্রামের মানুষ না থাকলে, সে এত ভোটে জেতে কী করে? উপনির্বাচনে ফলাফল যা হওয়ার তাই হবে। আমার প্রেডিকশন হচ্ছে বিজেপি এগিয়ে থাকবে।’
দল প্রার্থী করতে চাইলে তিনি যে নাকচ করে দেবেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আবু তাহের। ‘না সেটা আমি (নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়া) নাকচ করব। আমি আসল সময়ে যখন হচ্ছে টিকিট পেলাম না, তা একটা কঠিন সময়ে আমি কেন, জেনেশুনে লড়াই করতে গিয়ে হাত-পা ভাঙব। কঠিন সময় বলতে দু’দুবার ২০২১ এবং ২০২৬ সালে এখানে পরাজয় হয়েছে। তারপরে তো আর জায়গাটা সহজ নয়। কঠিন জায়গা। সহযোগিতা আমি তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। সব নিজেদের করতে হচ্ছে। হতাশ তো প্রথম থেকেই হচ্ছে।’
আবু তাহেরের দাবি নন্দীগ্রামে বিজেপিই জিতবে। বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর ঠিক দু’দিনের মাথায়, শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গাড়ির মধ্যেই গুলি চালিয়ে খুন করা হয়। নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে জল্পনা চলছে, বিজেপির তরফে প্রার্থী করা হতে পারে চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরাণি রথকে। এ বিষয়ে হাসিরাণি জানান, ‘CM সাহেব শুভেন্দু বাবুই হচ্ছেন আমার পরিবারের অভিভাবক। উনি যদি আমাকে কোনও দায়িত্ব দেন, আমি মাথা নেব।’
Kolkata Metro News : কাল সকালে টালিগঞ্জ থেকে ব্রিজি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে মেট্রো পরিষেবা | ABP Ananda
