
ব্যস্ততায় ভরা জীবনে নিজের কথা আর মাথায় থাকে না। তবে উপর থেকে সব ঠিক মনে হলেও, ভিতের ভিতরে শরীর ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষ করে কর্মরত মহিলা, যাঁরা ঘর-সংসার সামলানোর পাশাপাশি অফিসও সামলান, তাঁদের সতর্ক হওয়া উচিত।

কর্মরত মহিলাদের অনেকে ঘুমানোর সময়ই পান না। তিন-চার ঘণ্টা ঘুম জোটে সাকুল্যে। এর ফলে শরীর একেবারে অবসন্ন হয়ে পড়ে। সারাক্ষণ ক্লান্তি বোধ করেন। আবার অনেকে কোনও ছাড়াই সারাক্ষণ ক্লান্ত বা অবসন্ন বোধ করেন।

এক্ষেত্রে মহিলাদের কিছু ব্লাড টেস্ট অবশ্যই করানো উচিত বলে মত পুষ্টিবিদ রাশি চৌধরির। ভিতরে ভিতরে ঠিক কী সমস্যা দানা বাঁধছে, তা এর ফলে বোঝা সম্ভব বলে মত তাঁর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মহিলাদের কিছু ব্লাড টেস্ট অবশ্যই করানোর পরামর্শ দিয়েছেন রাশি। তাঁর মতে, অনেক সময় রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেও, কিছু উপসর্গ চিন্তা জাগায়। বিশেষ করে সারা ক্ষণ ক্লান্ত বা অবসন্ন বোধ করলে অবশ্যই ব্লাড টেস্টগুলি করিয়ে নেওয়া উচিত।

DHEAS: পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি ক্লান্তিভাব না কাটে, তাহলে অবশ্যই DHEAS টেস্ট করাতে বলছেন রাশি। তাঁর মতে, ডিহাইড্রোএপিঅ্যান্ড্রোস্টেরন সালফেটের মাত্রা ১৫০-৩০০-র মধ্যে থাকা উচিত। ল্যাবে যদিও স্বাভামিক মান ধরা হয় ৪৫। ৩৫ বছর বয়সের DHEAS-এর মাত্রা ২ শতাংশ করে কমতে থাকে বলে দাবি রাশির।

প্রোজেস্টেরন: রাত ৩টে নাগাদ ঘুম ভেঙে গেলে, পিরিয়ডসের আগে কিছু খেতে খুব ইচ্ছে হলে বা PMS-এর জটিল কোনও সমস্যা থাকলে প্রোজেস্টেরন পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। রাশি জানিয়েছেন, অভুলেশনের সাত দিন পর প্রোজেস্টেরন টেস্ট করানো উচিত। তাঁর মতে, প্রোজেস্টেরনের মাত্রা ১০-এর কাথাকাছি থাকা উচিত।

কর্টিসল: সারাদিন ঝিমুনি ভাব থাকে অনেকের। নিস্তেজ ভাব কাটতেই চায় না। ক্লান্তি বোধ হয় দিনভর। আবার রাত হলে চনমনে হয়ে ওঠেন। এটি কর্টিসলের সমস্যার লক্ষণ বলে মত রাশির। তিনি জানিয়েছেন, সকালের দিকে পরীক্ষা করালে মাত্রা যদি ৬-১৮ হয়, সেক্ষেত্রে কর্টিসলের মাত্রা নয়, বরং পরীক্ষার সময়কাল নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থাকে। তাই ফোর পয়েন্ট সালিভারি কর্টিসল টেস্ট করানোর পরামর্শ দিয়েছেন রাশি, যা দিনভর শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বুঝতে সাহায্য় করে।

থাইরয়েড: থাইরয়েডের সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর। কিন্তু অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যান। শুধু TSH পরীক্ষা নয়, তিনি ফ্রি T3, ফ্রি T4 পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত মহিলাদের ৮০ শতাংশেরই হাশিমোটোস রয়েছে। অনেক সময় বিষয়টি ধরা পড়ে না।

ফাস্টিং ইনসুলিন: কিছু খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে, সেই ইচ্ছে যদি দমানো না যায়, তাহলে ফাস্টিং ইনসুলিন পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন রাশি। ফাস্টিং ইনসুলিনের মাত্র ৫-এর নীচে থাকা উচিত বলে মত তাঁর। পাশাপাশি, HbA1c-র মাত্রা ৫.৩-এর নীচে থাকা ভাল বলে জানিয়েছেন।

রাশি জানিয়েছেন, মেয়েদের নিজেদেরকেই শরীরের কথা ভাবতে হবে। শরীর ভাল না থাকলে, ঘর-অফিস কিছুই ঠিকঠাক চলবে না। ডিসক্লেইমার : প্রতিবেদনে উল্লেখিত দাবি, পদ্ধতি পরামর্শস্বরূপ। প্রয়োজনে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ / চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন ও সেইমতো নিয়ম মেনে চলুন।
Published at : 04 Oct 2026 09:23 AM (IST)
