জর্জিয়া: পিছিয়ে থেকে ফের দুরন্ত ফুটবল খেলে জয়। বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে (Argentina vs England) হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্তিনা। ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকে ২-১ ব্যবধানে জয়। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফাইনালে জায়গা করে নিলেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। আর ম্য়াচে জেতার পরই ইংল্যান্ড ফুটবল দলকে ‘অসাধারণ দল’ বলে সম্বোধন করলেন ফুটবলের যুবরাজ।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন অ্য়ান্থনি গর্ডন। খেলার ৫৫ মিনিটের মাথায় এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড ফুটবল দল। কিন্তু খেলার ৮৫ মিনিটের মাথায় সমতা ফেরায় আর্জেন্তিনা। এঞ্জো ফার্নান্ডেজ দূরপাল্লার শটে গোল করে সমতায় ফেরায় নীল সাদা শিবিরকে। সেই গোলে অ্য়াসিস্ট ছিল লিওর। এরপর খেলার অতিরিক্ত মিনিটে ৯২ মিনিটের মাথায় মেসির ক্রস থেকে হেডে দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন লাওতারো মার্তিনেজ। এরপর আর ম্য়াচ বাঁচাতে পারেনি ইংল্যান্ড।
মেসি অবশ্য বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা একটা বিশেষ অনুভূতি আমাদের কাছে। এমন একটা ম্য়াচেই জয় ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিলাম আমরা। সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলাম। ইংল্যান্ড অসাধারণ একটা দল। ওদের প্লেয়াররাও বিশ্বমানের। আমি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আগে খেলিনি। কিন্তু বছরের পর বছর ওঁদের অনেক প্লেয়ারের বিরুদ্ধে ক্লাব পর্যায়ে খেলেছি। ওঁদের খেলার ধরণ দেখেছি। আমি নিশ্চিত ছিলাম এমন একটা রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনাল কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে আমাদের কাছে।’
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে যখনই এই গাঢ় নীল জার্সি পরে মাঠে নেমেছে আর্জেন্তিনা, ফল হয়েছে তাদের পক্ষে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার সেই বিখ্যাত হ্যান্ড অফ গড আর শতাব্দীর সেরা গোলের ম্যাচে, যে ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল লা আলবিসেলেস্তেরা, সেই ম্যাচে গাঢ় নীল রংয়ের অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন মারাদোনারা। সেবার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নও হয় আর্জেন্তিনা।
ম্য়াচের দ্বিতীয়ার্ধে যেন খেলার পুরো ভোল পাল্টে গিয়েছিল। গোল হজমের পর আর্জেন্তিনা পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়, আর ইংল্যান্ড দীর্ঘ সময় ধরে বলের দখল রাখতে ব্যর্থ হয়। সেই গোলটির পর বল পজিশন আর্জেন্তিনার কাছে ছিল ৮৮ শতাংশ ও ইংল্য়ান্ডের কাছে ছিল ১২ শতাংশ।
