ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম : রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু। রামপুরহাটের পাঁচ বারের বিধায়ক ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল আমলে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার পদও পান তিনি। তৃণমূল আমলের শেষ দিন পর্যন্ত বীরভূম জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্য়ান ছিলেন তিনি। অনুব্রত মণ্ডলের জেলবন্দি সময়ে, বীরভূমে তাঁর হাত ধরেই তৃণমূলের সংগঠন দাঁড়িয়ে ছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনে ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২৪ হাজার ২৩৩ ভোটে পরাজিত করেন ধ্রুব সাহা।
তুমুল ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের, কবে পর্যন্ত চলবে দুর্যোগ, কী জানাল আবহাওয়া দফতর ?
বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ উদ্ধার হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে। পুলিশ সূত্রে দাবি, মৃতদেহের পাশে উদ্ধার হয়েছে একটি নোট। এই গোটা ঘটনায় বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল বলছেন, ‘আশ্চর্য ব্যাপার। ভাবতে পারা যাচ্ছে। ওই লোকটা এত ভাল লোক। বউদি ভাল, ফ্যামিলি ভাল। কেন যে এই কাজটা করল বুঝতে পারছি না। কেন করল? ওর কোনও শত্রু নাই, ঝগড়া নাই। উনি কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটিতে যেত না। প্রচণ্ড দুঃখ… এই কাজটা কেন হল, কী জন্য হল। আমার সঙ্গে আশিস ব্যানার্জির বহু পুরনোকাল থেকে যোগাযোগ। গাইবাছুর থেকে পরিচয়। উনি খুব ভাল লোক, নিরীহ লোক, শান্ত লোক। ওনার সঙ্গে পরিচয় আজকের নয়। আশিস ব্যানার্জির মতো একজন লোক, একজন ব্যক্তিত্ব কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে আমার মনে হয় না।’
প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু। পুলিশ সূত্রে দাবি, দেহের পাশে উদ্ধার হয়েছে একটি নোটও। যেখানে লেখা রয়েছে, ছাত্রাবস্থা থেকেই আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সারাজীবনে এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি। কোনও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে কখনও জড়িত হইনি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। এককালে Tarapith Rampurhat Development Authority বা TRDA-র চেয়ারম্যান পদে ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি, সেই TRDA-তে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিজেপি। পালাবদলের পর শুরু হয় তদন্ত। পুলিশ সূত্রে দাবি, মৃতদেহের পাশে উদ্ধার হওয়া নোটে লেখা রয়েছে, TRDA-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। পুলিশ সূত্রে দাবি, উদ্ধার হওয়া নোটে আরও লেখা রয়েছে, আমাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করারই পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যেই থাক।
