নয়া দিল্লি: বৃষ্টির শহর যেন এবার সত্যিই জলের শহর! টানা প্রবল বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। শহরের একাধিক এলাকা কার্যত জলের তলায়। কোথাও বাড়ির উঠোনে ডুবে রয়েছে গাড়ি, কোথাও কোমরসমান জলে রাস্তা পেরোতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এমনকি বন্যার জলে সাপ ও মাছ ভেসে থাকার ভিডিওও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ব্যাংককের Flood Control Centre-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সপ্তাহান্তের বন্যায় প্রায় ৩ লক্ষ ২৯ হাজার পরিবার, অর্থাৎ আনুমানিক ৭ লক্ষ মানুষ প্রভাবিত হয়েছেন। প্রবল বৃষ্টির জেরে শহরের একাধিক রাস্তা ও নিচু এলাকা এখনও জলমগ্ন।
জলের তলায় গাড়ি, স্তব্ধ রাস্তা
টানা বৃষ্টির পর শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও রাস্তায় জমেছে বিপুল জল। ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পার্কিং এলাকায় গাড়ির জানলার উপর পর্যন্ত জল উঠে গিয়েছে। কোথাও আবার গাড়ির ছাদটুকু শুধু জলের উপর দেখা যাচ্ছে।
রাস্তাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। গভীর জলের মধ্যে মোটরবাইক নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে মানুষকে। কোথাও আবার জলমগ্ন রাস্তায় জেট স্কি চালানোর ভিডিও সামনে এসেছে। ওই ঘটনায় জেট স্কি চালককে পরে পুলিশ গ্রেফতার করে।
ব্যাংককের জলবন্দি পরিস্থিতির আরও একটি ভয়াবহ ছবি উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে। বেশ কিছু ভিডিওতে বন্যার জলে সাপ ও মাছ ভেসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তবে এই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি NDTV।
পূর্ব ব্যাংককের Bang Kapi এলাকায় কোথাও কোথাও জল প্রায় এক মিটার পর্যন্ত উঠেছে। পরিস্থিতির মধ্যেও বাজার চালু রাখার চেষ্টা করেছেন ব্যবসায়ীরা। প্লাস্টিকের বাক্স, ফোমের বাক্স এবং অন্যান্য ভাসমান পাত্র ব্যবহার করে পণ্য নিয়ে যাওয়ার ছবি সামনে এসেছে।
বিমানবন্দরেও চরম ভোগান্তি
প্রবল বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে Suvarnabhumi Airport-এও। বিমানবন্দরে তৈরি হয়েছে বিপুল ব্যাগেজ জট। প্রায় ৬ হাজার ব্যাগ দেরিতে পৌঁছনোর খবর পাওয়া গিয়েছে। বন্যার কারণে গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং কর্মীদের অনেকেই সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছতে পারেননি। তার উপর ব্যাগেজ কার্টের সমস্যাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে Thai Airways অফিসের কর্মী ও ম্যানেজারদের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সহায়তাও নিয়েছে। যাঁরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে পারছেন না, তাঁদের delayed baggage report করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৭ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
সপ্তাহান্তের প্রায় লাগাতার বৃষ্টির পর সোমবার থেকে ব্যাংককের জল কিছুটা নামতে শুরু করলেও বহু এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখনও জলমগ্ন ছিল। প্রশাসনের তরফে সরকারি দফতরের জন্য সোমবার ও মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের আবহাওয়া দফতর দেশের একাধিক অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে নতুন করে হড়পা বান, নদীর জল উপচে পড়া, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যাংককের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন বিপর্যস্ত হয়েছে সাধারণ জীবনযাত্রা, তেমনই পরিবহণ, বাজার এবং বিমান পরিষেবাতেও পড়েছে বড় প্রভাব। প্রবল বর্ষণের পর জল নামতে শুরু করলেও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে এখনও সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
TET Protest: নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনে ২০২২ সালের টেট পাস ডিএলএড ঐক্যমঞ্চ
