ঢাকা: রামচন্দ্রের মূর্তি নির্মাণকে ঘিরে ফের অশান্ত বাংলাদেশ। কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠনের হুমকির মুখে মূর্তি তৈরির কাজ স্থগিত রাখতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, জুতো মেরে রামচন্দ্রের ছবিকে অবমাননার অভিযোগও রয়েছে। সেই নিয়ে পথে নামলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনপন্থী পড়ুয়ারা। মশাল মিছিল করলেন তাঁরা। অবিলম্বে মূর্তি তৈরির কাজ শুরু করতে হবে বলে দাবি জানানো হয়েছে। (Lord Rama Statue in Bangladesh)
বাংলাদেশের গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে রামচন্দ্রের একটি ৮১ ফুট উঁচু মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। নির্মাণকার্য সম্পূর্ণ হলে বাংলাদেশের মাটিতে সেটিই রামচন্দ্রের সর্বোচ্চ মূর্তি হিসেবে গণ্য হবে। মূর্তিটির নির্মাণকার্য ৮০ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশে মাঝপথে মূর্তি নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। (Bangladesh News)
Bangladesh: People from minority Hindu community organised a protest against the demolition of a statue of Lord Shiva, saying that the act is against fundamentalism. Fundamentalists continue to target minorities in Bangladesh. pic.twitter.com/98L11SvBRE
— Aditya Raj Kaul (@AdityaRajKaul) June 15, 2026
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিভিন্ন মৌলবাদী ইসলামি সংগঠনের তরফে হুমকি আসছিল। সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও বাড়ছিল চাপ। যতটুকু মূর্তি হয়েছে, তা ভেঙে ফেলার দাবি উঠছিল। এমন পরিস্থিতিতে নির্মাণকার্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু হিন্দুরা ফুঁসে উঠেছেন। তারেক রহমানের শাসনকালে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নতুন করে।
ঘটনাচক্রে যে সময় এই ঘটনা সামনে এসেছে, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে দূরত্ব বাড়তে শুরু করেছে। এমনিতেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে নিত্যদিন সীমান্ত এলাকায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তার উপর সম্প্রতি দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন আধিকারিকদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন তারেকের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। অতীতের ভারত বিরোধী মন্তব্যের জেরেই তাঁকে আটকানো হয় বলে জানা যায়। সেই নিয়ে দিল্লির কাছে প্রতিবাদও জানায় ঢাকা। সেই আবহেই রামচন্দ্রের মূর্তি ঘিরে যে অশান্তি দানা বাঁধছে বাংলাদেশে, তাতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার যে মশাল মিছিলটি বেরোয়, তার আগে জগন্নাথ হলের সমাবেশে বক্তৃতা করেন জিএস সুদীপ্র প্রামাণিক। নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, ক্ষমতায় আসার পর আর তা মনে থাকে না বলে তোপ দাগেন তিনি। রামচন্দ্রের ছবি অবমাননায় দ্রুত গ্রেফতারির দাবি তোলেন। শুক্রবার বৃহত্তর আন্দোলন ঘোষণারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
গত ১২ জুন মূর্তি তৈরির বিরোধিতায় পলাশবাড়িতে একটি সমাবেশ হয়। সেখানে রামচন্দ্রের ছবিতে জুতো মারা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন অনেকেই। কেন মূর্তি তৈরির কাজ বন্ধ থাকবে, উঠছে প্রশ্ন। ৮১ ফুট উঁচু মূর্তিটি তৈরি করতে ১৫.৬ কোটি টাকা খরচ পড়ছে বলে জানা গিয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় ৫০ ফুট উঁচু শ্রীকৃষ্ণ এবং ৩০ ফুট উঁচু শিবের মূর্তি তৈরি হওয়ারও কথা। শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটির প্রেসিডেন্ট হরিদাস চন্দ্র দাস জানান, সনাতন ধর্মের মূল চরিত্রদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ স্বরূপই মূর্তি তৈরির সিদ্ধান্ত। কিন্তু হুমকি-হুঁশিয়ারির জেরে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
Bangladesh Violence | নৈরাজ্যের বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের হাতে ফের হিন্দু খুন | Bangladesh Chaos
