ঢাকা: শেখ হাসিনা সরকারের পতনে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কের সমীকরণও বদলেছে। ভারতকে ছেড়ে বর্তমানে চিনের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে ঢাকা। সেই নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তাঁর দাবি, একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির অর্থ অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি নয়। (India-Bangladesh Relations)
আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের তিন দিনের বাংলাদেশ সফর নিয়ে তোড়জোড়ের মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন খলিলুর। চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যত গভীর হচ্ছে, ভারত এবং আমেরিকার সঙ্গে ততই দূরত্ব বাড়ছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। কিন্তু খলিলুরের তাঁর বক্তব্য, “কোনও একটি দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অন্য কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক নয়। অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলব না আমরা। নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে প্রত্যেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাব আমরা।” (Bangladesh News)
সম্প্রতি চিন সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী দিনে তিনি ভারত সফরে আসবেন কি না, সেই নিয়েও কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। তবে খলিলুরের বক্তব্য, “সার্জিও গোর আসছেন। মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। কোনও একটি দেশের সঙ্গে নয়, বহু দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বাংলাদেশের। এটা স্ত্রী এবং সতীনের মধ্যে ঝগড়া নয়। নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার বিষয়। সেই মতোই এগোব আমরা।”
সার্জিওর বাংলাদেশ সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ যে সময় তিনি বাংলাদেশ পা রাখছেন, সেই সময় চিটাগংয়ে Chinese Economic and Industrial Zone গড়ে তোলার কাজ শুরু হচ্ছে। প্রায় এক দশক ধরে পরিকল্পনার পর বাংলাদেশে এই প্রথম এত বিনিয়োগ করছে চিন। চিনের সরকারি সংস্থা রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন (CRBC) এই প্রকল্প গড়ছে। তাদের মাধ্যমেই বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের বাস্তবায়ন ঘটাচ্ছে চিন।
আরও পড়ুন: NDA-র বৈঠকে গেলেন না ৩ NCPI সাংসদ, ‘কালীঘাট তৃণমূলে’ ফিরতে চাইছেন কি? বাড়ছে জল্পনা
সদ্য চিন সফর থেকে ফেরা তারেক সার্জিওকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশে। বাংলাদেশ সফরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরেও যাওয়ার কথা সার্জিওর। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য় বাংলাদেশকে অর্থসাহায্য় জোগায় আমেরিকা। পাশাপাশি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও অর্থসাহায্য় জোগায়।
ফেব্রুয়ারি মাসে তারেক বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয় বার আমেরিকার কোনও শীর্ষ আধিকারিক বাংলাদেশ সফরে এলেন। অন্য দিকে, বুধবারই বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে দেখা করেন খলিলুর।
