সুকান্ত মুখোপাধ্য়ায়, কলকাতা : এনকাউন্টারে মৃত্য়ু হল বারুইপুরে নাবালিকার যৌন নির্যাতন-খুনে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। আর বুধবার সকালে পুলিশ গিয়ে খবর দেয় মৃত প্রভাসের মা’কে। এরপর তিনি জানান, ছেলে কৃতকর্মের শাস্তি পেয়েছে। যেমন কাজ , তেমন পরিণাম। ছেলের অপরাধে রীতিমতো ক্ষুব্ধ তার মা-ও। তাই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, একটা মেয়েকে কষ্ট দিয়ে মেরেছে, ও তো সেই মরেছে।
প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন , ‘ও যেরকম কর্ম করেছে, মারা গেছে, ও যেরকম দুষ্কর্ম করেছে, আমার কোনও আর আপত্তি নেই, কষ্ট নেই, আর দুঃখ নেই। ও যেরকম একটা মেয়েকে কষ্ট দিয়ে মেরেছে, ও তো সেই মরেছে। শেষ আমার। আমরা আনব না। আমার কেউ নেই। আমি ও দেখতে পারব না। আমি ওর আর কিছু করব না। ও যাক।’
পুলিশ সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৫ নাগাদ অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল বারুইপুর থানা। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। সূত্রের দাবি, পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও ছোড়েন প্রভাস মণ্ডল। পাল্টা গুলিতে জখম হন অভিযুক্ত। বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
পুলিশ জানিয়েছে, যে পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছে, শনিবার তার পাশের একটি ঝুপড়িতে বসে নেশা করছিল আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দার। প্রভাস মণ্ডলকে ১০ হাজার টাকার টোপ দিয়ে, মেয়েটিকে আনতে বলা হয়। পুলিশ সূত্রে দাবি, জেরায় ধৃতরা দাবি করেছে, সেখানে আনার পরে, নাবালিকা পালাতে চায়। তখন তার ওপর অত্য়াচার চালানো হয়। নাবালিকা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে বস্তায় ভরে তাকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
ফেলার সময় ছিঁড়ে যায় বস্তাটি। তখন পুকুরে দেহ ফেলে রেখে বাড়ির উদ্দেশে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।
বারুইপুরকাণ্ডে মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় এর আগে আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার ও প্রভাস মণ্ডল— এই ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পর ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে ধরে থানায় নিয়ে যান স্থানীয় বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল। এনকাউন্টারে মৃত্য়ু হয়েছে এই প্রভাস মণ্ডলের। বারুইপুরকাণ্ডে সবার দাবি এখন একটাই। দ্রুত সুবিচার এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি।
Baruipur Incident: বারুইপুরে বর্বরতা, নাবালিকা নির্যাতন-খুনের ঘটনায় আটক আরও ১ | ABP Ananda Live
