EPF Withdrawal Rules : পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ তুললে, অবসরের সময়ে ১১ লাখের ক্ষতি


EPF Premature Withdrawal : এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের (EPFO) এই বিষয়ে জানেন না অনেকেই। আপনিও যদি এই ফান্ডে টাকা রেখে ১ লাখ টাকা তুলে নেন, তাহলে ক্ষতি হতে পারে ১১ লাখ টাকার। জেনে নিন, কীভাবে আপনার এই আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। 

এই ভুল করলে সমস্য়ায় পড়বেন

বর্তমানে চাকরিজীবীদের বিশ্বস্ত ভরসার জায়গা হল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফ (EPF)। কিন্তু অনেক সময়ই আকস্মিক টাকার প্রয়োজনে বা শখের জিনিস কিনতে আমরা কোনও কিছু না ভেবেই পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিই। আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ একটি সঞ্চয় মনে হলেও, সময়ের আগে এই টাকা তোলার সিদ্ধান্ত আপনার ভবিষ্যতের সঞ্চয়ে একটা বড় ধাক্কা দিতে পারে।

আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের আগে পিএফ-এর টাকা তুললে শুধুমাত্র আপনার বর্তমান সঞ্চয়টুকুই কমে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding Interest) যে বিপুল সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, তাও হাতছাড়া হয়ে যায়। একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে বিশেষজ্ঞরা হিসেব কষে দেখিয়েছেন, কীভাবে এখনকার একটি ছোট ভুল আপনার অবসরের সময়ের এক বিশাল অঙ্কের ক্ষতি ডেকে আনছে।

১ লাখ টাকা তুলে নিলে ১১ লাখের বেশি ক্ষতি! কিন্তু কীভাবে ?
অনেকেই ভাবেন, অ্যাকাউন্ট থেকে মাত্র ১ লাখ টাকা তুললে আর এমন কী ক্ষতি হবে! কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে আসল গণিত।

ধরুন, আপনি আপনার চাকরির শুরুর দিকে পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লক্ষ টাকা তুললেন। এই টাকাটি যদি আপনি না তুলে অ্যাকাউন্টে রেখে দিতেন এবং সরকার যদি বর্তমানের মতো গড়ে ৮.২৫ শতাংশ হারে বার্ষিক সুদ দিতে থাকে, তবে চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদুতে এই ১ লক্ষ টাকাই আপনার অবসরের সময় (প্রায় ৩০ বছর পর) বেড়ে দাঁড়াত আনুমানিক ১১ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ, আজ ১ লক্ষ টাকা তোলার মানে হল, অবসরের সময়ে সোজা ১১ লক্ষ টাকার বেশি লোকসান করা।

যদি ৫ লাখ টাকা তোলেন, তবে ক্ষতি কত ?
আপনি যদি কোনও বড় প্রয়োজনে পিএফ থেকে একবারে ৫ লক্ষ টাকা তুলে নেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে আপনার অবসরকালীন তহবিল বা রিটায়ারমেন্ট কর্পাস থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা কমে যেতে পারে।

কেন পিএফ-কে সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্ট ভাববেন না ?
ইপিএফ-এর মূল উদ্দেশ্যই হল চাকরি জীবন শেষ হওয়ার পর আপনাকে একটি বড় আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া। এখানে প্রতি মাসে আপনার এবং আপনার সংস্থার তরফ থেকে টাকা জমা হয়। এই স্কিমের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো চক্রবৃদ্ধি সুদ (Compounding), যেখানে সুদের ওপর আবার সুদ পাওয়া যায়। টাকা যত বেশি দিন জমা থাকবে, ফান্ডের আকার ততটাই জ্যামিতিক হারে বাড়বে। তাই গাড়ি কেনা, বিয়ে, বা ঘুরতে যাওয়ার মতো খরচের জন্য পিএফ-এর টাকা তোলাকে একটি মস্ত বড় ভুল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: তৈরি রাখুন ‘ইমার্জেন্সি ফান্ড’
পিএফ-এর টাকা যাতে হাত দিতে না হয়, তার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— আজ থেকেই নিজের একটি আলাদা জরুরি তহবিল বা ‘ইমার্জেন্সি ফান্ড’ গড়ে তুলুন। চিকিৎসা সংক্রান্ত বা অন্যান্য আকস্মিক প্রয়োজনে এই ফান্ড ব্যবহার করুন, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই অবসরের জন্য জমানো পিএফ-এর টাকায় হাত দেবেন না। মনে রাখবেন, আজকের ছোট কোপ, আগামীকালের বড় অভাব ডেকে আনতে পারে।

আরও পড়ুন : ১০ বছর কাজ করলেই পেনশন গ্যারান্টি, EPFO-র এই বিষয়ে আপনি জানেন কি ? 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *