সুরাত : চরম অর্থ সংকট। ব্যবসার উপর ‘ প্রশাসনিক কোপ ‘ । পরিবারে একের পর এক মৃত্যু। জীবন যেন ক্ষতবিক্ষত। সব হারিয়ে এখন বাঁচার ইচ্ছে টুকুও নেই। বেঁচে থাকা যেমন প্রতিদিনের সংগ্রাম। জেলা কালেক্টরের কাছে মৃত্যুভিক্ষে চাইলেন গুজরাতের এই দম্পতি। সুরাতে প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তুলে ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চেয়ে জেলা কালেক্টরের দ্বারস্থ হলেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। ৭৩ বছর বয়সী শ্যামভাই কাপুরজি গহলৌত এবং তাঁর ৬৮ বছর বয়সী স্ত্রী মধুবেন গহলৌতের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুরাত মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এসএমসি)-এর কিছু কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের চাপে তাঁদের জীবন কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদনে দম্পতি অভিযোগ করেছেন, বারবার তাঁদের দোকান সিল করে দেওয়ার ফলে তাঁরা আর্থিকভাবে সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একইসঙ্গে মানসিক যন্ত্রণাও এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাঁদের আর বেঁচে থাকার ইচ্ছা নেই।
এই দম্পতির জীবনের ট্র্যাজেডি আজকের নয়। ২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁদের পরিবারের ৯ জন সদস্য প্রাণ হারান। মৃতদের মধ্যে ছিলেন তাঁদের একমাত্র ছেলে, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনি, মেয়ে, জামাই এবং আরও এক আত্মীয়। সেই ঘটনার পর থেকে একে অপরের ওপর নির্ভর করেই নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন শ্যামভাই ও মধুবেন। ওই দম্পতির দাবি, ২০০৬ সালে তাঁরা ১১ টি ছোট দোকান কিনেছিলেন। ২০০৮ সালে এলাকাটি এসএমসি-র আওতায় আসার পর থেকে নিয়মিত করও দিয়ে আসছেন। কিন্তু ২০২১ সালে কোনও পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তৎকালীন এসএমসি এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার তাঁদের দোকানগুলি সিল করে দেন। এর বিরুদ্ধে তাঁরা গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং প্রায় পাঁচ বছর ধরে আইনি লড়াই চালান। দম্পতির দাবি, দমকল বিভাগের এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে, ওই ছোট দোকানগুলিতে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মতো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। এরপর চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি দোকানগুলি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, আদালতে স্বস্তি পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার নতুন করে বিপদ নেমে আসে। গত ৩০ মে বর্তমান কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দোকানগুলি পুনরায় সিল করে দেওয়া হয়। শ্যামভাই গহলৌতের দাবি, এ ক্ষেত্রেও কোনও লিখিত নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, কিছু কর্মকর্তা তাঁকে এক স্থানীয় নেতার সঙ্গে দেখা করার জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং তাঁর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে। বারবার লিখিত ব্যাখ্যা চাইলেও প্রশাসনের তরফে কোনও উত্তর মেলেনি বলেও দাবি তাঁর। হতাশ ও ক্ষুব্ধ শ্যামভাই তাঁর আবেদনে লিখেছেন, “আমাদের আর বেঁচে থাকার কোনও ইচ্ছা নেই। যদি ন্যায়বিচার না পাই, তাহলে মৃত্যুই আমাদের একমাত্র পথ।” এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সুরাতে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত এসএমসি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
Suvendu Adhikari: ‘৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে, যাঁরা কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করবে’,বললেন মুখ্যমন্ত্রী
