মায়ামি: নরওয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড দল (Norway vs England)। তার আগে থ্রি লায়ান্সদের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এমনিই দলে চোট আঘাতে একাধিক তারকা জর্জরিত, উপরন্তু দুই ম্যাচের জন্য নির্বাসিত হলেন দলের আরেক তারকাও।
বায়ের লেভারকুসেনের জারেল কুয়ানশা (Jarell Quansah) এ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে রাইট ব্যাকে খেলছেন। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে তিনিই সেই জায়গায় খেলেছিলেন। ম্যাচটি টানটান লড়াইয়ের পর ইংল্যান্ড ৩-২ জিতে শেষ আটে পৌঁছলেও, লাল কার্ড দেখেন কুয়ানশা। এই লাল কার্ডের জন্যই পরবর্তী দুই ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামতে পারবেন না তরুণ ডিফেন্ডার।
ইংল্যান্ডের রাউন্ড অফ ১৬-র ম্য়াচে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ৫৪তম মিনিটে লাল কার্ড দেখেছিলেন কুয়ানশা। জিসাস গেলার্দোকে ফাউল করায় লাল কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের তরুণ ডিফেন্ডার। এমন পরিস্থিতিতে লাল কার্ড দেখলে নিয়ম অনুযায়ী কোনও খেলোয়াড় এক ম্যাচের জন্য নির্বাসিত হন। তবে কুয়ানশার ওই চ্যালেঞ্জটা অত্যন্ত বিপদজনক বলেই গণ্য করা হয় এবং সেই কারণেই বিচার বিবেচনা করে ফিফার নিয়মরক্ষা কমিটি তাঁকে বাড়তি এক ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করল।
আরও পড়ুন:- জয় উদযাপন করতে গিয়ে ভাঙল হাত, অস্ত্রোপচারের পর বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেলেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞতম ফুটবলার
এই নির্বাসনের ফলে লিভারপুল প্রাক্তনী ইংল্যান্ডের হয়ে নরওয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্য়াচে তো মাঠে নামতে পারবেনই না, উপরন্তু ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছলেও, তিনি আর্জেন্তিনা বা স্যুইৎজ়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচেও খেলতে পারবেন না। একমাত্র ইংল্যান্ড ফাইনালে পৌঁছলেই নিউ ইয়র্ক খেতাবি ম্য়াচে তাঁকে খেলতে দেখা যেতে পারে।
ফিফার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে কি না, সেই বিষয়ে এফএ ভাবনাচিন্তা করছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বর্তমানে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জায়গা নেই। তবে এই সিদ্ধান্তের জেরে ফের এক ফিফা কাঠগড়ায় চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন ব্যালগুন বিপদজনক চ্যালেঞ্জে বসনিয়ার বিরুদ্ধে রাউন্ড অফ ৩২-র ম্য়াচে লাল কার্ড দেখেন। তবে সেই ক্ষেত্রে ব্যালগুনকে মাত্র এক ম্য়াচের জন্যই নির্বাসিত করা হয়। উপরন্তু, সেই নির্বাসন পরে তুলেও নেওয়া হয়। তিনি বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে রাউন্ড অফ ১৬-র ম্য়াচেও খেলেন।
পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প জানান তিনি ব্যালগুনের লাল কার্ডের বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফানতিনোর সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন। ঘটনাক্রমে, তারপরেই ব্যালগুনের লাল কার্ডের জেরে নির্বাসনের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। সেই নিয়ে বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ড কোট টমাস টুশেলও মুখ খুলেছিলেন। কিন্তু এবার দেখা গেল টুশেলের দলের খেলোয়াড়ের জন্য এমন ছাড় দেওয়া হল না। ফলে ফের একবার ফিফাকে ঘিরে দ্বিচারিতার অভিযোগ উঠছে।
