তোর্ষা ভট্টাচার্য্য, কলকাতা: দীর্ঘদিন থেকেই চিত্রনাট্য বেছে সিনেমা করেন তিনি, প্রযোজনার দায়িত্বও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজের হাতে রাখেন। গোটা বছরে হাতে গোনা ছবিতে অভিনয় করলেও, তাঁর অনুরাগীদের সংখ্যা এখনও তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই। তাঁরা যেন অপেক্ষা করে থাকেন এই নায়কের একটা ছবি দেখার জন্য। আর এবার, সেই নায়ক পর্দায় তুলে ধরবেন এক বিপ্লবীর জীবনকে। স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি পাচ্ছে, পথিকৃৎ বসু পরিচালিত জিৎ (Jeet)-এর নতুন সিনেমা, ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’। নায়কের সঙ্গে এই ছবিটি যুগ্মভাবে পরিচালনা করছে, নন্দী মুভিজ। ছবি মুক্তির আগে, ছবির ব্যবসা থেকে শুরু করে রাজ্যের সরকার বদল.. এবিপি লাইভ বাংলার (ABP Live Bangla) সব প্রশ্নের সোজাসাপ্টা জবাব দিলেন পর্দার অনন্ত সিংহ।
সিনেমা জুড়ে জিৎ-এর একাধিক লুকে চমক
‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটা হল জিতের লুক নিয়ে। এই সিনেমায় ৯টি আলাদা আলাদা লুকে দেখা যাবে জিৎকে। পরিচালক বিপ্লবী অনন্ত সিংহের জীবনের ৯টি অধ্যায়কে তুলে ধরার জন্য এই ৯টি লুক তৈরি করা হয়েছে। গোটা বিষয়টা জিতের কাছে কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল? অভিনেতা বলছেন, ‘এ কথা সত্যি যে, আমি আমার কেরিয়ারে একটা সিনেমার মধ্যে এতগুলো লুক, চরিত্রের এতগুলো স্তর নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাইনি। তবে আমার থেকেও কাজটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল, আমাদের রূপটানশিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুর কাছে। আমরা লুক টেস্ট করেছি, বারে বারে বদল করেছি। তবে প্রতিটা লুক একে অন্যের থেকে এতটা আলাদা হয়েছে। আর অভিনয়ের দিক থেকে, আমি আমার সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। এবার দর্শক বলবেন, কেমন লেগেছে।’
বাংলা সিনেমার ব্যবসা ও চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে একাধিক বাংলা সিনেমা মুক্তি পেলেও, সেই অর্থে ব্য়বসা দিতে পারছে হাতে গোনা ছবি। ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ -এর কোন কোন বিষয়গুলি প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানবেন বলে মনে করছেন জিৎ? অভিনেতা বলছেন, ‘আমি শুধু চাই, মানুষ আমার শিল্পীসত্ত্বাকে ভালবাসুক। ছবির গল্প, অভিনয় সব যেন মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। প্রযোজকের জায়গা থেকে এই ছবি নিয়ে আপাতত ভাবতে চাই না। শিল্পী হিসেবেই কথা বলতে চাই।’
বিভিন্ন লুক, প্রস্থেটিক রূপটান নিয়ে কাজ, চরিত্রের বিভিন্ন স্তর, অ্য়াকশন.. এই ছবির কোন বিষয়টা জিৎ-কে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল? নায়ক বলছেন, ‘আমি এই সফরটাকে উপভোগ করতে ভালবাসি। চ্যালেঞ্জ তো জীবনের প্রত্যেক পদক্ষেপেই রয়েছে কিন্তু অভিনেতা হিসেবে যদি গল্প বলতে পারি, সেটা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভাললাগার। সেটাই মন-প্রাণ দিয়ে করতে চাই।’
রাজনীতি, টলিউড এবং জিৎ
দীর্ঘদিন টলিউডে প্রথম সারির নায়কের জায়গা ধরে রাখলেও, রাজনীতির ময়দান থেকে বরাবরই দূরে জিৎ। কখনোই তাঁকে কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যায়নি, এ নিয়ে বিশেষ মন্তব্যও করতে চান না তিনি। তে রাজ্যে ক্ষমতার হাত-বদল হওয়ার পরে, নতুন বিজেপি সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন জিৎ। তৃণমূলের আমলে টলিউডে যে রাজনীতির একটা বড় প্রভাব ছিল, তা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। সরকার বদল হওয়ার পরে, টলিউডের কী কী উন্নতি আশা করেন জিৎ? অভিনেতা বলছেন, ‘আগে রাজ্যের উন্নতি হওয়া দরকার। রাজ্যের মানুষের ভাল হওয়া দরকার। রাজ্যের মানুষের যদি ভাল হয়, তাতে টলিউডও সুবিধা পাবে, দেশও সুবিধা পাবে। তবে বাংলার সংস্কৃতিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। যদি রাজ্যের সংস্কৃতি সুস্থভাবে চলে, বাকি সব সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে। আর যদি রাজ্য সঠিকভাবে চলে, রাজ্যের মানুষের পকেটে যদি টাকা থাকে, উপার্জন থেকে শুরু করে রাজ্যের উন্নতি.. সব যদি ভালভাবে হয়.. তাহলে আপনাআপনিই টলিউড উপকৃত হবে।’
শ্যুটিংয়ের নেপথ্য গল্প
পথিকৃৎ বসু তুলনামূলক নতুন পরিচালক, তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন হল? জিৎ বলছেন, ‘খুবই ভাল অভিজ্ঞতা। পুরো সফরটাই আমার কাছে ভীষণ আকর্ষণীয়। শ্যুটিংটা ভীষণ উপভোগ করেছি। পথিকৃৎ সেটে থাকলেই একটা এনার্জি আসত, পাশাপাশি কী কী করলে দৃশ্যটা আরও ভাল হবে, খোলা মনে সেটা আলোচনা করার সবসময় একটা জায়গা রাখত ও। অভিনেতা হিসেবে এটা খুব ভাল লেগেছে। সমীক হালদার, আমাদের DOP আমার সঙ্গে রোজ বিভিন্ন শট নিয়ে আলোচনা করত। দিনের শুরুটাই হত খুব ইতিবাচকভাবে।’
দীর্ঘ অভিনয়ের কেরিয়ার, জিতের পরিচালনায় আসার ইচ্ছা রয়েছে? নায়ক হেসে জানালেন, এখনও তেমন কোনও পরিকল্পনা করেননি তিনি।
