Lightning Bolt Strikes Eiffel Tower: আইফেল টাওয়ারের মাথায় বজ্রপাত, শিউড়ে ওঠার মতো দৃশ্য, ভিডিও ভাইরাল


নয়াদিল্লি: আইফেল টাওয়ারের মাথায় বজ্রপাত। অতি বিরল সেই মুহূর্ত বন্দি হল ক্যামেরায়। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে গেল সব। আলোকিত হয়ে উঠল দিগন্ত। ওই মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্য়াল মিডিয়ায়। 

ফ্রান্সের রাজধানী প্য়ারিসে প্রবল ঝড়বৃষ্টি চলছিল। সেই সময়ই হঠাৎ আইফেল টাওয়ারের মাথায় বজ্রপাত হয়। সেই মুহূর্তে অভূতপূর্ব আবহাওয়াজনিত দৃশ্যপট তৈরি হয়। স্থানীয় মানুষজন ওই ঘটনা চাক্ষুষ করেন, অনেকে আবার ক্যামেরায় বন্দি করেন সেই দৃশ্যপট। 

আইফেল টাওয়ারে বজ্রপাত

যে ভিডিওটি সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, আঁধার ঘনিয়ে এসেছে চারিদিকে। ঝড়-ঝঞ্ঝা চলছে তখনও। এদিক ওদিক খেলে বেড়াচ্ছে বিদ্যুতের রেখা। সেই সময়ই হঠাৎই সূক্ষ্ম, রুপোলি রেখার সৃষ্টি হয় আকাশে। সেই রেখা সোজা গিয়ে ছুঁয়ে ফেলে আইফেল টাওয়ারের মাথা। 

চোখের সামনে ওই দৃশ্য দেখে বিহ্বল হয়ে পড়েেন অনেকে। ভয়ও পেয়ে যান অনেকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৩০ মিটার উঁচু আইফেল টাওয়ারে বাজ পড়া কোনও আহামরি ঘটনা নয়। তবে বজ্রপাত সহ্য় করার ক্ষমতা রয়েছে আইফেল টাওয়ারের। সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে সেটিকে।

বছরভরই আইফেল টাওয়ারে বজ্রপাত হয়। ঝড়-ঝঞ্ঝার তীব্রতার নিরিখে বছরে গড়ে পাঁচ থেকে ১০ বার সরাসরি বজ্রপাত ঘটে। তবে তাতে আইফেল টাওয়ারের কাঠামোর কোনও ক্ষতি হয় না। সুপরিকল্পিত বজ্রপাত-সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে নীচের দিকে চালিত করে দেওয়া হয় বজ্রপাতকে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ফিরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা, কবে, কী পরিকল্পনা, সব জানালেন

বজ্রপাতের পরও অক্ষত আইফেল টাওয়ার

ঝড়-ঝঞ্ঝার সময় আইফেল টাওয়ারে প্রায়শই বজ্রপাত ঘটে। সাধারণত উঁচু এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী বস্তুর উপরই আঘাত হানে বজ্র। এতে বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত ঝোড়ো মেঘ এবং মাটির মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্বের পথ তৈরি হয়। তবে প্রচলিত ধ্যান-ধারণা আইফেল টাওয়ারের ক্ষেত্রে খাটে না। কারণ আইফেল টাওয়ার বিদ্যুৎকে আকর্ষণ করে না। বরং বজ্রপাতের মুহূর্তে লোহার ওই বিরাট কাঠামো বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহের সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম হয়ে ওঠে।

এক্ষেত্রে ‘ফ্যারাডে কেজ’ হয়ে ওঠে আইফেল টাওয়ারটি, যা বিদ্যুৎ নিরোধক খাঁচার ভূমিকা পালন করে। পদার্থবিদ মাইকেল ফ্যারাডে ওই নীতির স্রষ্টা। এক্ষেত্রে আইফেল টাওয়ারে বজ্রপাত ঘটলে কাঠামোর ভিতরে উপস্থিত মানুষকে না ছুঁয়ে, আইফেল টাওয়ারের ধাতব কাঠামোর মধ্যে দিয়ে বিদ্য়ুৎ প্রবাহিত হয়। গোটা আইফেল টাওয়ারটিই ফ্যারাডে খাঁচায় পরিণত হয়।

আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে বিশেষ নকশার গ্রাউন্ডিং রয়েছে, যা সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিদ্যুৎপ্রবাহকে নিরাপদে মাটির গভীরে ছড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি, আধুনিক সার্জ প্রোটেকশন বা বিদ্যুতের ঝটকা প্রতিরোধ ব্যবস্থা আইফেল টাওয়ারের লিফট, আলোকসজ্জা, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং বৈদ্যুতিন অবকাঠামোর ক্ষতি হতে দেয় না।

আরও পড়ুন: প্রাক্তনকে মেরে আত্মহননের ছক, গাড়ি-বোমায় ছিন্নভিন্ন যুবক, লাফিয়ে পড়ে বাঁচলেন তরুণী

আইফেল টাওয়ার বজ্র প্রতিরোধক

স্মৃতিস্তম্ভটির পাদদেশে থাকা বিশেষ নকশাকৃত গ্রাউন্ডিং ব্যবস্থা সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে সেই বিদ্যুৎপ্রবাহকে নিরাপদে মাটির গভীরে ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া আধুনিক ‘সার্জ প্রোটেকশন’ বা বিদ্যুৎ-ঝটকা প্রতিরোধ ব্যবস্থা টাওয়ারের লিফট, আলোকসজ্জা ব্যবস্থা, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং ইলেকট্রনিক অবকাঠামোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আবহাওয়ার উপর নজরদারি চলে। প্রবল ঝড়বৃষ্টি, দুর্যোগের সময় সতর্কতামূলক ভাবে আইফেল টাওয়ারের কিছুটা আংশ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। তবে বজ্রপাতের দরুণ আইফেল টাওয়ারের কাঠামোর ক্ষতি হয় না সচরাচর।

এবার আইফেল টাওয়ারের মাথায় এমন সময় বজ্রপাত ঘটল, যখন পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র দাবদাহ চলছে। আর্দ্র এবং অস্থির বাতাস শক্তিশালী বজ্রঝড় নিক্ষেপ করছে সেখানে। উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয় বাষ্প ধারণে সক্ষম, যার দরুণ বিধ্বংসী দুর্যোগ দেখা দেয়। মুহুর্মুহু বজ্রপাতও সেই দুর্যোগেরই অংশ, যা দেখলে আতঙ্কিত হয়ে পড়া স্বাভাবিক। তবে তাতে আইফেল টাওয়ারের কোনও ক্ষতি হয় না।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *