প্রিটোরিয়া: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূয়সি প্রশংসা শোনা গেল কেশব মহারাজের(Keshav Maharaj) গলায়। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ও প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় SA20 লিগের দল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ। অন্য়দিকে, কেশব মহারাজ এই দলেরই ক্যাপ্টেন। গত মরশুমে রানার্স আপ হয়েছিল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস। সৌরভের কোচিংয়ে দল যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছে, তা উল্লেখ করেন কেশব। দলের মধ্য়ে এক সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক, এ কথাই বলেছেন প্রোটিয়া তারকা।
মহারাজ বলেন, ‘এই ধরণের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে, দলের মধ্য়ে পরিবেশটা গড়ে তুলতে হয়। দলের ভেতরে বন্ডিং থাকতে হয়। চারপাশে একটা খোলামেলা পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছিল সৌরভ। ওঁর নিজের নেতৃত্বগুণ ক্ষমতা সম্পর্কে গোটা বিশ্ব জানে। ওঁ ঠিক সেই মনোভাবটাই দলের মধ্য়ে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। মাঠের বাইরেও সবাই একসঙ্গে সময় কাটাত, একসঙ্গে রাতের খাবার খেত এবং খেলা নিয়ে আলোচনা করত। এছাড়াও ওঁর উপস্থিতিতে দলের মধ্য়ে একটা বিশ্বাস জন্মেছিল। যাতে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য়েও সব প্লেয়ারদের চাঙ্গা থাকতে সাহায্য় করেছিল।’
প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস গত মরশুমে টুর্নামেন্টে রানার্স আপ হয়েছিল। ফাইনালে উঠলেও অল্পের জন্য খেতাব হাতছাড়া করতে হয়। সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের বিরুদ্ধে ম্য়াচ খেলতে নেমে হেরে যায় সৌরভের দল।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বর্তমানে সিএবি সভাপতি। কিছুদিন আগেই সিএবি-র এমার্জেন্ট জেনারেল মিটিংয়ে পরিস্থিতিত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। যুগ্মসচিব পদে কেন নির্বাচন হল না, তা সদস্য়দের জানাতে বুধবার যে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল সিএবি-তে। ডেকেছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন ছিল মূলত তিনটি। বয়স ৭০ বছর হয়ে গেলে, বা ক্রিকেট প্রশাসনে ৯ বছর কাটিয়ে ফেললে, কিংবা সরকারি পদে থাকলে কেউ সিএবি-র বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন কি না। দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত লোঢা কমিটির আইনে এই তিন মাপকাঠিতেই প্রতিনিধিত্ব বাতিল করার কথা বলা রয়েছে। যদিও সৌরভ শিবিরের পাল্টা বক্তব্য ছিল, লোঢা আইন শুধু পদাধিকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ক্লাব, জেলা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে নয়। এ নিয়েই বুধবার বিকেলের বৈঠকে আলোচনা চলছিল। বৈঠকে ক্রিকেট অ্য়াসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের ১৪৮ জন অনুমোদিত ভোটারের মধ্যে একশো জনেরও বেশি হাজির ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত অনেকের সঙ্গেই কথা বলে জানা গেল, প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া ও প্রাক্তন সচিব নরেশ ওঝার মধ্যে লোধা আইনে কারা যোগ্য, কারা অযোগ্য, তা নিয়ে যুক্তি-পাল্টা যুক্তির একটা পর্ব চলছিল। সেই সময় টালিগঞ্জ অগ্রগামী ক্লাবের প্রতিনিধি শুভঙ্কর ঘোষ দস্তিদার, ময়দানে যিনি অভিষেক-ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত, তিনি কিছু একটা বলতে যান। শোনা গেল, সেই সময়ই সিএবি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত টেবিল চাপড়ে প্রতিবাদ করেন। তাতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
