নয়াদিল্লি: বহু বছর ধরে চলছিল প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত ২৮ ফেব্রুয়ারি মেলে সাফল্য। ইরানে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের হত্যা নিয়ে এমনই তথ্য সামনে এসেছে। গোটা তেহরানের ট্র্যাফিক সিগনালই ইজ়রায়েল হ্য়াক করে নিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। আর সেই আবহেই নতুন তথ্য সামনে এল। জানা গিয়েছে, খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠবৃত্তে নিজেদের চর ঢুকিয়েছিল ইজ়রায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ (Mossad). দন্ত চিকিৎসক সেজে খামেনেই ঘনিষ্ঠদের মুখের ভিতর ‘ট্র্যাকিং চিপ’ চালান করে দেওয়া হয়। আর তাতেই খামেনেইয়ের নাগাল মেলে শেষ পর্যন্ত। (Iran-Israel War)
কী করে খামেনেইয়ের নাগাল পেল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল, সেই নিয়ে এখনও পর্যন্ত একাধিক তত্ত্ব সামনে এসেছে। তাতেই নয়া সংযোজন ছদ্ম দন্ত চিকিৎসকের ভূমিকা। জানা যাচ্ছে, খামেনেইয়ের নাগাল পেতে ইরানে নিজেদের গুপ্তচর ঢুকিয়ে দেয় মোসাদ, যার মধ্যে দন্ত চিকিৎসকও ছিলেন। ইরানের শীর্ষ অধিকর্তা এবং খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঢুকে পড়তে সফল হন তাঁরা। দাঁত তোলা, দাঁতের ক্ষয় রোধ, সবেতেই ডাক পড়তে শুরু করে তাঁদের। সেই চিকিৎসা করতে গিয়েই খামেনেই ঘনিষ্ঠদের দাঁতের ভিতর ‘ট্র্যাকিং চিপ’ চালান করে দেওয়া হতো, যার মাধ্যমে তাঁদের গতিবিধি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেত মোসাদ। (Mossad News)
গ্যাস্ট্রো চিকিৎসকরাও একই কাজ করতেন বলে দাবি সামনে আসছে। যদিও এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে যথেষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসার নামে দীর্ঘ সময় ধরে এমন কাজ চালানো অসম্ভব। যদিও বা গোপনে কোনও চিপ বসানো হয়ে থাকে, তা কোনও না কোনও ভাবে ধরা পড়ে যাবেই। এর সপক্ষে কোনও দৃঢ় প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয় বলে মত তাঁদের।
তবে এখানেই শেষ নয়, খামেনেইয়ের হাতে তিল তিল করে গড়ে ওঠা ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডসে মোসাদ নিজেদের গুপ্তচর ঢোকাতে সফল হয়েছিল বলেও দাবি উঠছে। রেভলিউশনারি গার্ডসের কম্যান্ডার ইসমাইল কানি আসলে মোসাদের গুপ্তচর এবং আমেরিকার CIA-এর খোচর বলেও উঠছে অভিযোগ। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল একযোগে ইরানে হামলা চালালেও, তিনি বেঁচে গিয়েছেন এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। Reddit থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হামলার কিছু ক্ষণ আগেও খামেনেইয়ের বাড়িতে ছিলেন ইসমাইল। হামলার ঠিক আগে আগে বেরিয়ে যান। ইরান বা ইজ়রায়েলের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি এ নিয়ে।
আমেরিকার হাতে কাসেম সোলেমনির মৃত্যুর পর ২০২০ সলে Quds Forces-এর দায়িত্ব পান ইসমাইল। এই Quds Forces আসলে রেভলিউশনারি গার্ডসের বিদেশি শাখা, যারা বিদেশে ইরানের হয়ে কৌশলী অভিযান চালায়। পাশাপাশি, মোসাদ BadeSaba অ্যাপ হ্যাক করে নেয় বলেও দাবি করা হচ্ছে। সেটি একটি প্রার্থনা-অ্যাপ গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি। তবে এই সব দাবিদাওয়ার গোটাটাই চর্চানির্ভর। সরকারি ভাবে কোনও দেশের তরফে বিবৃতি আসেনি এ নিয়ে।
