কলকাতা: তৃণমূলের দখল এবার কার্যত চলে গেল ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়দের হাতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে চলে গেল রাশ। নতুন জাতীয় কর্মসমিতিতে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হলেন অরূপ রায়। নেই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কিংবা অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নাম। কটাক্ষের সুরে ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেছেন, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় পরামর্শ দিতে চাইলে স্বাগত। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় সম্পর্কে তাঁর গলায় শোনা গিয়েছে তীব্র তাচ্ছিল্য়।
কোন্দল কিংবা ভাঙন নয়। আর কোনও রাখঢাক গুড়গুড় নয়। একে বারে রাজনৈতিক অভ্য়ুত্থান। ‘নতুন তৃণমূল’-এর উত্থান, বাদ মমতা ও অভিষেক। যে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিজের হাতে গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, সেখানে বাদ পড়লেন তিনিই। যে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় একসময় ছিলেন সেনাপতি, বাদ গেলেন তিনিও।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রতিষ্ঠাতা। আর তাঁকে বাদ দিয়ে তৃণমূলের চেয়ারম্যান হলেন অরূপ রায়। ঋতব্রত হলছেন, “অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, তার যে স্পেশাল সেশন হয়েছে, যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অভিষেককে নিয়ে কোনও কথা হয়নি।” আর এই সব কিছু নিয়েই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।
আরও পড়ুন: জুনের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণে বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়ের দাপট, উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে কার্যত ‘ডিলিট’ করে শুরু হল ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়দের তৃণমূলের নতুন ‘চ্যাপ্টার’। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তাঁর গলায় ঝরে পড়ল তাচ্ছিল্য। এই তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী? বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “ক্যাটেগরিকালি আমরা বলেছি, আমরা এর আগেও পরিষদীয় দল বলেছি যে, উনি প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে আমাদের যদি পরামর্শ দিতে চান, আমরা ওঁকে স্বাগত জানাব।”
মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের জায়গায় তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্য়ান হলেন হাওড়া মধ্য়-র তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়। যাঁরা এরসময় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কিচেন ক্য়াবিনেটের সদস্য় ছিলেন। সর্বক্ষণ তাঁকে ঘিরে রাখতেন, তাঁরাও পাকাপাকিভাবে নাম লেখালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের শিবিরে।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজকে সর্বসম্মতিতে এই স্পেশাল সেশন থেকে শ্রী অরূপ রায় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও আরও ২৯ জন, যাঁদের নিয়ে ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন শ্রী ফিরহাদ হাকিম, শ্রী অরূপ বিশ্বাস, শ্রী জাভেদ আহমেদ খান, শ্রী বিপ্লব মিত্র, শ্রী আখরুজ্জামান, শ্রীমতি সাবিনা ইয়াসমিন, শ্রী রথীন ঘোষ, শ্রী সন্দীপন সাহা।”
নিউটাউনের একটি হোটেলে এদিন দেখা যায় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের হোর্ডিং। সেখানে লেখা ‘স্পেশাল সেশন’। রয়েছে তৃণমূলের প্রতীক ঘাসফুলও। কিন্তু সেই হোর্ডিংয়ে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। পরিবর্তে দেখা গেল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী ও বি আর অম্বেদকর, নজরুল ইসলামের ছবি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ‘কালীঘাট’ তৃণমূলে ক্রমাগত ভাঙন নিয়েও এদিন কটাক্ষ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বিরোধী দলনেতা বলেন, “যার নাম ঘোষণা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়, যাদের নাম ঘোষণা হচ্ছে, তাঁরা তার আগেই অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। পরের দিন সকালবেলা রেজিগনেশন দিচ্ছেন। এর মধ্যে সো কলড জাতীয় কর্মসমিতি বলে যেটাকে বলা হচ্ছে, তার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রেজিগনেশন দিয়েছেন। কালকে বিধানসভায় তিনি আসবেন।”
কোষাধ্যক্ষ পরিচয় দিয়ে চিঠিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য আবেদন জানিয়ে অরূপ বিশ্বাসের চিঠি ঘিরে আগেই তোলপাড় পড়েছে। তার মধ্যে রবিবার শোকজের জবাবে ৩ পাতা চিঠি দিয়েছেন তিনি। আর সোমবারে নভোটেলে বৈঠক থেকে তাঁর নামই ঘোষণা করা হয়েছে ন্যাশনাল ওয়ার্কি কমিটির সহ সভাপতি হিসেবে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ন্যাশনাল ওয়ার্কি কমিটি ৪ জনকে সহ-সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে। সহ সভাপতিরা হচ্ছেন শ্রী ফিরহাদ হাকিম, শ্রী অরূপ বিশ্বাস, শ্রী রথীন ঘোষ এবং শ্রীমতি সাবিনা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদক শ্রী জাভেদ আহমেদ খান, শ্রী বিপ্লব মিত্র, শ্রী সন্দীপন সাহা, শ্রী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কোষাধ্যক্ষ শ্রী আখরুজ্জামান।”
তৃণমূলের কোষাগার কোন দিকে থাকবে, তা নিয়েও বড় মন্তব্য করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, “তদন্তের জন্য অনেক বিধায়করা অভিযোগ করেছে, অরূপ সহ সভাপতি। আমরা সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি স্পেশাল অডিটর নিয়োগ করতে হবে। আমরা নিয়ম মেনে করেছি। এটা মগের মুলুক না। শিবঠাকুরের আপন দেশে আইন। হুইমসে চলে না।”
Aroop Biswas: “আমি তৃণমূল, তৃণমূল, তৃণমূল”, আর যা বললেন অরূপ বিশ্বাস…
