দুর্গাপুর: ছোট-বড়-নামী-অনামী বহু রেস্তোরাঁর খাবারে মিশেছে ভেজাল। খাস কলকাতাতেই কমপক্ষে ৫৪টা রেস্তোরাঁ, খাবার দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করে দিয়েছে পুরসভা। কোথাও মিলেছে পচা খাবার, ফ্রিজারে রাখা মাংস। আবার কোথাও দেওয়ালে করার রং মিশেছে বিরিয়ানিতে। সামনে এসেছে ছাতা ধরা মোমোর ছবিও। এতদিন ধরে এসব খাবারই সাজিয়ে-গুছিয়ে তুলে দেওয়া হচ্ছিল খাদ্যরসিক বাঙালির পাতে। আর এবার এমনই এক ঘটনা ঘটল দুর্গাপুরে।
পিৎজায় ফাঙ্গাস! খাবার থেকে বেরোচ্ছে পচা, বাসি গন্ধ। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারে বেকারি সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠতেই দ্রুত অ্যাকশন নিল পুলিশ। সাময়িকভাবে বন্ধ করা হল দোকানের ঝাঁপ। গোটা ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করল ওই দোকান কর্তৃপক্ষ।
দোকানের কর্মীর দাবি, ‘হ্যাঁ ওই প্রোডাক্টে একটু গন্ধ ছিল। আমাদের দোকানে যে প্রোডাক্ট আসে তা দিনের দিন সেল না হলে আবার রিটার্ন চলে যায়। কোনও কারণবশত হয়তো রয়ে গেছে ওই পিৎজা। কেন এমনটা হল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
অভিযোগকারী ক্রেতা বলেন, ‘আমার সাড়ে তিন বছরের মেয়ে আবদার করেছিল পিৎজা খাবে। আমি সেই শুনে এই দোকানে আসি। সেখান থেকে ৬৫ টাকা দিয়ে এই পিৎজা কিনি। দোকান থেকে গরম করে দিয়েছিল। আমি প্যাকেটে করে নিয়ে যাই। এরপর মেয়ে প্রায় অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে। সেই সময় কী মনে হতে আমি একটু টেস্ট করে দেখি ভয়ঙ্কর দুর্গন্ধ বেরচ্ছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে বাকি পিৎজা প্যাকেটে করে দোকানে যাই। কর্মীরাও গন্ধ শুঁকে স্বীকার করেছে এর সত্যতা। বলছে টাকা ফেরত দিচ্ছি। কিন্তু আমার মেয়ের যদি কিছু হত তাহলে দায় কে নিত?’
মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ। বিশেষ খাদ্য নিরাপত্তা সপ্তাহে, রাজ্যজুড়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকানে অভিযানে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর ছবি।
পচা বা অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যেমন বমি, ডায়ারিয়া, পেট ব্যথা, অ্যালার্জি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের মধ্যে দিয়ে এইসব ভেজাল ও ক্ষতিকর পদার্থ যদি দীর্ঘদিন ধরে পেটে যায় তাহলে শরীরে তো কুপ্রভাব পড়েই, এছাড়া অঙ্গহানি থেকে শুরু করে জীবন বিপন্ন পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তেমনই দীর্ঘদিন ধরে এসব খেলে লিভার, কিডনির ক্রনিক অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি অসুখেও পাড়তে হতে পারে আমাদের।
Madan Mitra News : ‘জোড়াফুল মানে মমতা আর অভিষেক ছিল, সেটা আমরা জানতাম না’, বললেন মদন মিত্র | ABP
