আশাবুল হোসেন, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর যেমন বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ তেমনই প্রকাশ্যে এসেছে একাধিক নয়া সমীকরণ। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়ার পর এবছর কার্যত খণ্ডবিখণ্ড একুশে জুলাই দেখল রাজ্য। যা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। এরই মধ্যে আজ বিধানসভায় পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিচালনার ঘটনায় CID তদন্তের দাবি উঠল। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে CID তদন্ত দাবি করলেন সোনারপুর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর।
কার নির্দেশে শীতলকুচিতে গুলি চলেছিল সেদিন? কে উস্কানি দিয়েছিলেন? সেই সব প্রশ্ন ফের একবার উস্কে দিয়ে আজ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিচালনার ঘটনায় CID তদন্ত দাবি করলেন বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর। ৫ বছর আগে ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে শীতলকুচিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪ জন। যা নিয়ে সেই সময়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার সময়ে কোচবিহারের (Cooch Behar) পুলিস সুপার ছিলেন দেবাশিস ধর। পরে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন।
আজ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর (Debasish Dhar) বলেন, “শীতলকুচির (Sitalkuchi) ঘটনায় তিনটি FIR হয়েছিল। তার মধ্যে উস্কানি দিয়ে এই ঘটনাটি ঘটানোর জন্য তৎকালীন সরকারের যিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধেও FIR হয়েছিল। দুঃখের বিষয়, সেই ঘটনার কোনওদিন তদন্ত করেনি CID ।” তিনি আরও বলেন, “কেন শীতলকুচি ঘটেছিল? কীভাবে উস্কানি দিয়ে এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল? সেটা যেন সামনে আসে।” নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে অভিযোগ হেনে তিনি বলেন, “এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও এই একই ধরনের বক্তব্য তিনি বলেছিলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সজাগ ছিল। না হলে এরকম আরও বড় বড় ঘটনা ঘটতে পারত।”
শীতলকুচির ঘটনার স্মৃতিচারণ করে দেবাশিস ধর বলেন, “এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে একজন মুখ্যমন্ত্রী SP সম্পর্কে এই কথা বলতে পারে যে এই মামলায় ওঁকে ফাঁসাও! পরবর্তীকালে সেই রেকর্ডিং সামনে আসে, সেই কারণেও আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়।” আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) বিষয়টির ফের নতুন করে তদন্তের অনুরোধ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, আজ বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট পেশ। আজই তার জবাব দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জবাবি ভাষণে আইনশৃঙ্খলা ও গুন্ডা দমন নিয়ে কী বার্তা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের মোট ১৫ বছরের শাসনে মাত্র একবারই এই বাজেট নিয়ে আলোচনার সুযোগ পেয়েছিলেন বিধায়করা। তবে তৃণমূল জমানার ইতির পর বদলাল সেই চিত্র। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেট অধিবেশনেই স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার সুযোগ মিলেছে।
