Share Market Crash : ফের বড় ধসের মুখে পড়ল ভারতের শেয়ার বাজার (Indian Stock Market)। সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই রক্তাক্ত হল মার্কেট। এক মাত্র একঘণ্টার মধ্যেই প্রায় তিন শতাংশ পড়ে গিয়েছিল সূচক। পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দামের জেরে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা (Investment)। এদিন সেনসেক্স (Sensex) ১৩৫০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের (Investment) প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
বাজারের বর্তমান অবস্থা
এদিন বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স (Sensex) ১.৭১% বা ১৩৫৩ পয়েন্ট পড়ে ৭৭,৫৬৬.১৬-এ থিতু হয়। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি (Nifty 50) ৪২২ পয়েন্ট (১.৭৩%) কমে ২৪,০২৮.০৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। সবথেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সেক্টর, যেখানে ২.৪৬% পর্যন্ত পতন দেখা গেছে।
ধসের মূল ৫টি কারণ
১. তেলের দাম ১১৫ ডলার পার: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের আবহে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২৬% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৭.১৬ ডলারে পৌঁছেছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৯০% আমদানি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম প্রতি ১ ডলার বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা বেড়ে যায়, যা সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
২. টাকার দামে রেকর্ড পতন: সোমবার ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম একধাক্কায় ৫৮ পয়সা কমে ৯২.৩৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটি সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তর। টাকার দাম কমায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন, যা ধসকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
৩. দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনেই-এর নিয়োগ এবং তেহরানের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান বিশ্ববাজারে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের মতো উদীয়মান বাজারের ওপর তার প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।
৪. মার্কিন ডলার ও বন্ড ইল্ডের বৃদ্ধি: বিশ্ববাজারে ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং মার্কিন ১০ বছরের বন্ড ইল্ড ৪.২১% পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া ভারতীয় বাজারের জন্য নেতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। এর ফলে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করে নিরাপদ আশ্রয়ে টাকা সরিয়ে নিচ্ছেন।
৫. বিশ্বজুড়ে হাহাকার: শুধু ভারত নয়, জাপানের নিক্কেই (৫.৫% পতন), কোরিয়ার কোস্পি (৬% পতন) সহ ইউরোপের বাজারগুলিও এদিন বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞের মত: জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলী ভি.কে. বিজয়কুমার বলেন, “অনিশ্চয়তা এখন সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ। পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট কতদিন চলবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ।”
( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না।)
