মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: ২১ জুলাই, তৃণমূলের শহিদ দিবস । আর সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বিজেপির পতাকা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ । অভিযোগের তির তৃণমূল কর্মীদের দিকে । বিষয়টা বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা প্রতিরোধ তৈরি করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা । ২০ জুলাই রাতে এই নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় দুর্গাপুরের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন মুচিপাড়া এলাকায় ।
মঙ্গলবার ২১ জুলাই । আর সোমবার রাতে বাঁকুড়ার দিক থেকে একটা যাত্রীবাহী বাস তৃণমূল সমর্থকদের নিয়ে শহিদ দিবস পালন করতে কলকাতার দিকে যাচ্ছিল । আর সেই সময় মুচিপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে । এর পরই ওই বাস বাঁকুড়ার দিকেই পালিয়ে যায় ।
জানা গিয়েছে, একটি বাস থেকে তৃণমূল সমর্থকরা মুচিপাড়া সংলগ্ন ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে নামে । অভিযোগ, তারপর তারা জাতীয় সড়কের ধারে লাগানো পতাকা ছিঁড়ে দেয় । এর পরই পাল্টা প্রতিবাদ শুরু করে বিজেপি । বেগতিক অবস্থায় পড়ে ওই বাস এক কথায় পালিয়ে যায় বাঁকুড়ার দিকেই । এরপরই বিক্ষোভে সামিল হয় বিজেপি কর্মীরা ।
ঘটনার পর দুর্গাপুর পশ্চিমের তিন নম্বর মন্ডল সভাপতি তেজনারায়ণ পান্ডে বলেন, তৃণমূল ভুলে গিয়েছে যে তারা আর ক্ষমতায় নেই । এই ঘটনার ফলে মুচিপাড়া এলাকায় টানটান উত্তেজনা ।
অন্যদিকে, ২১ জুলাইয়ের আগের রাতে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর মঞ্চের পোস্টার, ফেস্টুন ছিঁড়ে দেওয়ার ও মাইকের তার খুলে দেওয়ার অভিযোগ । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে । এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতভর বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের সামনে বসে রইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তাঁর সড়ঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেন, মহুয়া মৈত্র ও কুণাল ঘোষের মতো নেতারা ।
অবশেষে ২১ জুলাই সকাল ৭ টার দিকে সভামঞ্চের সামনে থেকে বাড়ির দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । যদিও সভামঞ্চের সামনে এখনও রয়েছেন কুণাল ঘোষ ও মহুয়া মৈত্রের মতো নেতা, নেত্রীরা । কুণাল ঘোষ ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা রাতে সাড়ে ৩ টের বাড়ি যান । তারপর সকালে তাঁরা ফিরে এলে বাড়ি যান মমতা, অভিষেক ।
