অভিষেকের কার্যালয়ে ডিজিটাল লক করা ঘরের হদিশ, ভাঙতে এল দমকল


পার্থপ্রতিম ঘোষ, আমতলা : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয়ে ডিজিটাল লক করা ২টি ঘরের হদিশ। তা ভাঙতে এসেছে দমকলবাহিনী। ইতিমধ্যেই ভিতরে দমকলবাহিনী ঢুকেছে বলে খবর। এছাড়াও বহুতলের সামনে স্ট্যান্ডবাইতে রয়েছে বুলডোজার। ফের ভাঙার কাজ হতে পারে বলে অনুমান। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, অভিষেকের এই কার্যালয় থেকে তাঁদের উপর এতদিন ধরে অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়েছে। 

বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার অফিস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের দাবি, ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের কার্যালয়টি অবৈধভাবে তৈরি। জোড়া নোটিসের পরেও কেউ শুনানিতে হাজির না হওয়ায় করা হল বুলডোজার অ্যাকশন। শনিবারের বারবেলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের অফিসে চলল বুলডোজার। ৩-৩টি জেসিবি দিয়ে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের কার্যালয়ের এক-একটি অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। 

মমতাকে ‘আল্টিমেটাম’ কল্যাণের, ‘ওদের ফেরালে আমি আর…’

দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অফিসটি বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়। এনিয়ে ১৫ জুলাই শুনানির জন্য জোড়া নোটিস দেওয়া হলেও, কেউ হাজির হননি বলে প্রশাসনের দাবি। এরপরেই শনিবার বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার দিয়ে শুরু হয় অ্যাকশন। শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার অফিস ভাঙা শুরু হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন এলাকার বিজেপি কর্মীদের একাংশ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে বুলডোজার চলাকালীন এলাকার এক পঞ্চায়েত সদস্যকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের পিছু ধাওয়া করে তাঁকে হঠানো হয়। 

অভিষেকের আমতলার কার্যালয়ে বুলডোজারের অ্যাকশন শুরু হতেই বিজেপি কর্মীদের একাংশ বলছেন, ‘বিপত্তারিণীর দিনে বিপদের খুঁটিটাই আমরা আজকে উপড়ে ফেলব।’ কেউ বা বলছেন, ‘এই সেই অফিস যেখানে তৈরি হত শাহজাহান, জাহাঙ্গির। এরা অবৈধ একটা সন্ত্রাস তৈরি করেছিল পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রাজত্ব করার জন্য।’ অভিষেকের কার্যালয়ে বুলডোজার অ্যাকশন শুরু হতেই মিষ্টি বিলি করেছেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ। কেউ বা বলছেন, ‘আমরা যারা ডায়মন্ড হারবারবাসী, আমরা জানি কী পরিমাণ অত্যাচার এই অফিস থেকে বসে আমাদের উপর করা হয়েছে।’ কেউ কেউ আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। কার্যালয়ের ভিতরে পাওয়া ল্যাপটপ পুলিশ হাতে তুলে দেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের দাবি, সেখানে গরু পাচার সংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারে। 

এর আগে, বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও আত্মীয়স্বজনকে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফে পাঠানো হয় ১৭টা নোটিস। সম্পত্তির চরিত্র বদলের অভিযোগে কালীঘাট রোডের একটি সম্পত্তিতেও নোটিস দেয় পুরসভার অ্য়াসেসমেন্ট বিভাগ। এবার সেই একই বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ভাঙা হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ কার্যালয়। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *