বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি লিওনেল মেসি ভক্তর হৃদয়ভঙ্গ। অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আর্জেন্তিনাকে ০-১ গোলের ব্যবধানে পরাস্ত করল তারা। প্রথম থেকে কার্যত খেলার রাশ একচেটিয়া নিজেদের দখলে রেখে দিয়েছিল স্পেন। শেষও করল সেভাবেই। গোটা টুর্নামেন্টে মাত্র একটিই গোল খেয়েছে স্পেন। দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশাল পরিমাণ আর্থিক পুরস্কার পেতে চলেছে তারা। ভারতীয় মুদ্রায় সেই পরিমাণ ৪৯২.৮৬ কোটি টাকা। কম অর্থ পাচ্ছে না আর্জেন্তিনাও। রানার্স-আপ হয়ে তারা দেশে নিয়ে যাচ্ছে ৩২৭.৩৭ কোটি টাকা।
ফাইনাল ম্যাচে প্রথম থেকেই দাপট দেখাল স্পেন। বরাবর ম্যাচের রাশ রেখে দিল নিজেদের কাছে। তবে, একাধিক চেষ্টা স্বত্ত্বেও জালে বল ঢোকাতে পারছিলেন না স্প্যানিশ ফুটবলাররা। শেষমেশ ১০৬তম মিনিটে এল দুরন্ত গোল। ফেরান তোরেস জালে বল ঢোকাতেই উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেন স্প্যানিশ ফুটবল ভক্তরা। ২০১০ সালের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১১৬তম মিনিটে জয়সূচক গোল করে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা স্পেনের জন্য প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব নিশ্চিত করেছিলেন। এবার সেই ইনিয়েস্তার পাশে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখালেন ফেরান তোরেস—আজ ১০৬তম মিনিটে বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত শটে গোল করে।
ফেরান বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত শটে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের নাম খোদাই করে নিলেন। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে স্পেনের নিকো উইলিয়ামসের একটি গোলও বাতিল করা হয়। গোলটির ঠিক আগের মুহূর্তে ফাউল হওয়ার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্যভাবে শেষ হয়। আর্জেন্তিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ১১টি সেভ করেন, যা বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনও গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে আর্জেন্তিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখেন, ফলে অতিরিক্ত সময়ে দলকে ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে হয়। ২০১০ সালের পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।
এদিকে টানা চারটি বড় শিরোপা জয়ী প্রথম দল হওয়া এবং একইসঙ্গে নিজেদের বিশ্বকাপ মুকুট ধরে রাখার সুযোগ নিয়ে আর্জেন্তিনা এই ম্যাচে খেলতে নেমেছিল। তবে সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় পুরস্কারগুলি স্পেনের দখলে গেছে। ১৯ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক পাউ কুবারসি জিতেছেন ‘ইয়ং প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ পুরস্কার, গোলরক্ষক উনাই সিমন জিতেছেন ‘গোল্ডেন গ্লাভ’ পুরস্কার এবং মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা রদ্রি মেসিকে পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে জিতে নিয়েছেন ‘গোল্ডেন বল’ পুরস্কার।
