কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের পর রীতিমতো কোনঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে ভরাডুবির পর একের পর এক নেতা, বিধায়ক ও সাংসদরা তাঁর হাত ছেড়েছেন। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সময় সই জালিয়াতি কাণ্ডে তৃণমূল ভেঙে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এক পক্ষ মমতার (কালীঘাট তৃণমূল) সঙ্গে, অন্য পক্ষ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (বিদ্রোহী ব্লক) দিকে। কিন্তু ধীরে ধীরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের মানুষরাও ‘বিট্রে’ করে। ফিরহাদ থেকে মদন সবাই এখন তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের সদস্য। এদিকে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র শিবির বদল করতেই জল মাপছেন উত্তর ২৪ পরগনার নেতারাও। কেউ বলছেন মদন মিত্রর সঙ্গে আছেন, আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও আছেন। কেউ আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভ। সব মিলিয়ে ২১ জুলাইয়ের আগে আরও নিঃসঙ্গ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়েছেন কোয়েল মল্লিক। হাত ছাড়ার ঘোষণা করেছেন প্রাক্তন বিদ্য়ুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্তও। যুব কংগ্রেস থেকে যাঁর সঙ্গে সম্পর্ক, সেই মদন মিত্রও যোগ দিয়েছেন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ। অন্যদিকে শুক্রবার ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ যোগ দিচ্ছেন রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ও। মদন মিত্র এবং তাপস চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের দিকে ঝুকলেও, কোয়েল মল্লিক ও মণীশ গুপ্ত কোন দিকে পা বাড়াচ্ছেন সেদিকেই তাকিয়ে অনেকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এরা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। কারণ, রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কোয়েল মল্লিক সোজা চলে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সাথে দেখা করতে। এখানেই বাড়ে জল্পনা। তবে কী বিজেপির হয়ে রাজ্য সভার সাংসদ হবেন তিনি? জোরালো হচ্ছে এই প্রশ্ন।
এই ইস্তফা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বললেন, “উনিও তৃণমূল ছাড়লেন…তৃণমূল নির্মূল, আমি এটুকু বলতে পারি।” ”রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নিয়ম মেনে, প্রকৃতির নিয়ম মেনে, সমাজের নিয়ম মেনে, তৃণমূল থাকতে পারে না। যেটা কোনও রাজনৈতিক দলই নয়, যেটা নির্মূল, যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কোনও মানুষের কোনও আগ্রহ নেই, তা নিয়ে আলোচনা করা মানে সময় নষ্ট করা।”
অন্যদিকে, ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ”কোয়েল মল্লিক আগে থেকেই প্ল্যান করেছিলেন যে তৃণমূলে উনি থাকবেন না। আগামী দিনে তিনি আবার রাজ্যসভায় পৌঁছবেন। যেরকম বাকি ৩ জন সাংসদের সঙ্গে হয়েছে, বিজেপির শক্তি রাজ্যসভাতে আরও বাড়ছে।” সুতরাং, বঙ্গ রাজনীতি এখন মদন মিত্রের মত ‘কালারফুল’। কে যে কার পাশে রয়েছেন, কেই বা কখন শিবির বদলে ফেলছেন, রাজনীতির খেলা বোঝা দায়।
(স্টোরিটি এই মুহূর্তে ব্রেক করা হয়েছে, আপডেট করা হচ্ছে I সাম্প্রতিকতম আপডেট পেতে রিফ্রেশ করুন)
