কলকাতা: আজ রথযাত্রা। টান পড়বে রথের রশিতে। আজকের এই বিশেষ দিনে মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে হাজির হয়েছেন অসংখ্য পুণ্যার্থী৷ উৎসবের দিন নিরাপত্তা জোরদার করতে সতর্ক পুলিশ ও প্রশাসন৷ পুরীর রথযাত্রা যাতে নির্বিঘ্নে এবং সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে ওড়িশা সরকার। মন্দির চত্বর, রথ টানার পথ ও আশেপাশের সড়কপথে যেমন রয়েছে কড়া নিরাপত্তা, তেমনই সমুদ্র থেকেও চলছে নজরদারি। আকাশে উড়বে ড্রোনও। পুরো শহর জুড়ে প্রায় ১৩ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সঙ্গে আছে ১৫ কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনীও। অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত আছে NSG টীমও।
এ বছরেও পুরীতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশ এমনকি বিদেশ থেকেও পুরীর রথ যাত্রা দেখতে হাজির হন কাতারে কাতারে মানুষ। কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হয় এই উৎসবে। পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলানো প্রতি বছরই একটি চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে ওঠে প্রশাসনের কাছে। পুরীর অ্যাডিশনাল ডিজিপি এস কে প্রিয়দর্শী জানান, ”এটা জগন্নাথ ধাম। রথ যাত্রার সময় পুরীতে নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণে, আমাদের রাজ্যের স্পেশাল টেকটিক্যাল ইউনিট, NSG, NSG-এর ‘ইবার্স’ (IBARS) টীম সহ সমস্ত পুলিশ ফোর্সকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
স্নানযাত্রার পর জগন্নাথ দেবের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। তখন লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকেন তিনি। কবিরাজের পাঁচন খেয়ে জ্বর ছাড়লে হয় নবযৌবন উৎসব। সেই রীতি অনুযায়ী, বুধবার বলরাম, সুভদ্রা, জগন্নাথদেবকে নবযৌবন বেশ পরানো হয়। আজ পুণ্য তিথিতে টান পড়বে রথের রশিতে। মাসির বাড়ি যাবেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা। সেই উপলক্ষ্যে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী এসেছেন জগন্নাথ ধামে। তাই নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপোষ করেনি ওড়িশা সরকার ও পুলিশ প্রশাসন।
মঙ্গলে হয়েছে নবযৌবন বেশ। বুধবার মন্দির থেকে গেল ‘আজ্ঞামালা’। এদিকে নিম্নচাপের কারণে মুখ ভার আকাশের। সকাল থেকে বৃষ্টিও হচ্ছে বিক্ষিপ্তভাবে। নিম্নচাপ বৃষ্টির মাঝে পুরীতে তুঙ্গে রথের রশি টানার প্রস্তুতি। প্রতিবারের মতো এ বারও বিশেষ ধরনের কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি রথ। অর্থাৎ, জগন্নাথদেবের নন্দীঘোষ, বলভদ্রের তালধ্বজ এবং সুভদ্রার রথ দর্পদলন। পুরীর মহারাজা গজপতি দিব্য সিংহ দেব জানান,
‘আগেকার দিনেও বৃষ্টি হত, জগন্নাথ চাইলে অন্য সময় রথ করতে পারতেন। আগে মাটির রাস্তায় রথের কী অবস্থা হত। আসলে রথ চলে ভক্তদের ভক্তির টানে।’
