স্কুলের জমিতে ব্যাডমিন্টন কেন্দ্র, বেআইনি নির্মাণেও দেবরাজ-যোগ? কী অভিযোগ স্থানীয়দের?


কলকাতা: দেবরাজের (Debraj Chakraborty) বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ। দক্ষিণ দমদমে স্কুলের জমিতে ব্যাডমিন্টন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর টেবিল টেনিস অ্যাকাডেমি, দেবরাজ-বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দক্ষিণ দমদমের ১৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির (Tarunjyoti Tewari) কাছে ক্ষোভ উগরে দিলেন বাসিন্দারা। শুধু স্কুলের জমি দখল নয়, এলাকায় বেআইনি নির্মাণেরও অভিযোগ তোলেন বিজেপি বিধায়ক।

তরুণজ্যোতি জানান, ‘রাস্তাগুলির মধ্যে এক, দেড় ফুটের গ্যাপ। লোকজন এই ফ্ল্যাটগুলি কেনে কম দামে পাবে বলে। অবৈধ নির্মাণের রমরমা। পুরসভার দোষ। এবার এইগুলি ভাঙলে তো সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর তৈরি হয়েছে টেনিস অ্যাকাডেমি। এই অ্যাকাডেমি মেনটেন খরচ করে মিউনিসিপ্যালটি। তবে পুরসভার যে ৬০ হাজার টাকা এর জন্য ভাড়া নেওয়া হয়, সেটা কোনওদিনই জমা পড়েনি। পুরো টাকাই জমা পড়ত সজল দাসের পকেটে। সেটাকে ভাগ করে দেওয়া হত। এটা ছোট সিন্ডিকেট নয়, বিরাট বড় সিন্ডিকেট। এই ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে বহু অনুষ্ঠান বাড়ি সরকারের তরফে, পুরসভার তরফে বানানো হয়েছিল তবে গোটা টাকাটাই যেত সজল দাসের পকেটে।’

ব্যাডমিন্টন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মতো জায়গাগুলি ব্যবসায়িক স্বার্থেই তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করা হলেও অভিযোগ উঠছে দেবরাজ চক্রবর্তী, অদিতি মুন্সিরাই ছিলেন এর পিছনে। দেবরাজ চক্রবর্তীর সুবাদেই এই স্কুল ব্যাডমিন্টন কোর্টে রূপান্তরিত হয় এবং এখানে প্রশিক্ষণের জন্য মোটা টাকা নেওয়া হত। এই টাকা হিসাবমতো পুরসভার কাছেই যাওয়ার কথা, তবে তা কোনও সময়ই পুরসভায় পৌঁছয়নি বলে জানাচ্ছেন এলাকার নবনির্বাচিত বিধায়ক তরুণজ্যোতি। এই কোর্টের আওয়াজ, লোকজনের আনাগোনায় সমস্যা হচ্ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। সরকার বদলের আগেই থানাতে স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও কোনও সুরাহা হয়নি। তবে বর্তমানে তারা আরও বেশি সরব হয়েছেন।

এক স্থানীয় অভিযোগ করেন, ‘সঞ্জয় দাস এখানে দেবরাজের প্রভাবে, কেউ মানুক না মানুক, আমরা স্থানীয়রা সকলে জানি যে ওরা একটা জায়গা ফাঁকা রাখেনি। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের থেকেও দেবরাজের বড় বড় ছবি প্রচারে দেখা যেত যার নেপথ্যে ছিলেন সঞ্জয় দাস। এখানে আগে একটা ছোট্ট স্কুল ছিল। এখানে একটু গরীব, পিছিয়ে পড়া মানুষজন বিনা পয়সায় নিজেদের ছেলে মেয়েদের পড়াতেন। সেই স্কুলটা বন্ধ করে দেওয়া হল, বলা হল এখানে বৃদ্ধাশ্রম হবে। সেই বৃদ্ধাশ্রমও গেল, কারণ যিনি জমিটা দান করেছিলেন, তিনি স্কুলের জন্যই দান করেছিলেন। বাচ্চাদের খেলার পার্ক বন্ধ করে বিজনেস সেন্টার তৈরি হল। সব পার্ক শেষ করে দিয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *