কলকাতা: পাক গুপ্তচর সন্দেহে এবার গ্রেফতার করা হল মুর্শিদাবাদের বাসিন্দাকে। পাকিস্তানে OTP পাঠানোর অভিযোগে বহরমপুর থেকে একজনকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন চলত বলেও দাবি পুলিশ সূত্রে।
এরাজ্যের মাটিতে বসেই কি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে সমানে যোগাযোগ? সলতে পাকানো হচ্ছিল সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের? পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহে গ্রেফতার করা হল মুর্শিদাবাদের আরও এক বাসিন্দাকে। ধৃতের নাম, সুমন শেখ। শনিবার রাতে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে STF.
কিন্তু কীভাবে এই সুমন শেখের হদিশ পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স? গত সপ্তাহে মুর্শিদাবাদ থেকে জুহাব শেখ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সিম কার্ড বিক্রেতা এই জুহাব শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই নাম উঠে আসে সুমন শেখ-এর। সূত্রের খবর, গত কয়েকবছর ধরে পুণের একটি লেদ কারখানায় কাজ করত সুমন।
সেই সময়ই সোশাল মিডিয়া মারফত পাকিস্তানের বেশ কিছু চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। আর এরপরই সক্রিয়ভাবে তাদের জন্য কাজ করতে শুরু করে সুমন। সূত্রের খবর, সুমন শেখের নির্দেশেই সিম কার্ড বিক্রেতা জুহাব ভারতের সিম কার্ডের OTP পাকিস্তানে পাঠাত। অন্যের নথি ব্যবহার করে তোলা সিম কার্ড হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলত জুহাব। নম্বর ভেরিফিকেশনের জন্য যে ওটিপি আসত তা পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের পাঠিয়ে দিত। ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে চলত মোটা টাকার লেনদেন।
মুর্শিদাবাদ থেকে পাক গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশ সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া সুমন শেখকে ১৪ দিনের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এর পাশাপাশি, দিল্লিতেও জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আট জনকে। এরাজ্য থেকে ধৃত ২ জনের একজন মালদার বাসিন্দা। ৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লির কাশ্মীরি গেট মেট্রো স্টেশন-সহ একাধিক মেট্রো স্টেশনের পিলারে দেশবিরোধী পোস্টার নজরে আসে। সেগুলি দেখতে পান CISF জওয়ানরা।
এরপরই যোগাযোগ করা হয় দিল্লি পুলিশের মেট্রো ইউনিটের সঙ্গে। তদন্তের জন্য কলকাতায় আসে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের টিম। এরাজ্যের পুলিশের সহায়তা নিয়ে মালদার উমর ফারুক, ও বাংলাদেশে রবিল উল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, জেরায় দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় দেশবিরোধী পোস্টার সাঁটানোর কথা স্বীকার করেছে ২ জনেই।
