Ram Mandir Donation Row: রামমন্দিরে কোটি কোটি টাকা তছরুপে চম্পত রাইকে জিজ্ঞাসাবাদ, দূরত্ব বাড়াল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ


নয়াদিল্লি: অযোধ্যায় রামমন্দিরের টাকা তছরুপ, লুঠের ঘটনায় ট্রাস্টের প্রাক্তন আধিকারিক চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করল পুলিশ। রামমন্দিরের টাকা, সম্পদ লুঠের অভিযোগ ঘিরে তরজার মধ্যে ‘রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রে ট্রাস্ট’ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত এবং অনিল। একজন ছিলেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক, অন্য জন ট্রাস্টি। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের SIT জিজ্ঞাসাবাদ করল তাঁদের। (Ram Mandir Donation Row)

চম্পতকে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দানের টাকা গ্রহণ, গুছিয়ে রাখা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি জানতে চাওয়া হয় তাঁর কাছে। গত ২৭ জুন পদত্যাগ করেন চম্পত। তার পর সোমবারই প্রথম তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল। দানের টাকা, সম্পদ লুঠে কোনও ভাবে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন চম্পত। বিষয়টি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করেছেন বলেও জানান তিনি। (Ram Mandir Donation Theft)

মন্দিরে দানের টাকা কোথায় জমা পড়ে,নগদের বিনিময়ে রসিদ দওয়া হয় কি না, আর কী কী মূল্যবান জিনিসপত্র দান করেন মানুষজন, সবকিছু নিরাপদ জায়গায় গোনা হয় কি না, নিয়মিত টাকা ব্যাঙ্কে জমা পড়ে কি না, এমন একাধিক প্রশ্ন করা হয় চম্পতকে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে: অবিনাশ শুক্ল, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীষ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব, রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের টাকা এদিক ওদিক করতে দেখা গিয়েছে বলে খবর।

আরও পড়ুন: মোদির মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনা, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নরের নামও উঠে আসছে, বাদল অধিবেশনের আগে না পরে, এখনও স্পষ্ট নয়

একেবারে সূচনাপর্ব থেকেই দু’হাত উপুড় করে দান করে আসছেন পুণ্যার্থীরা। ২০২৪-’২৫ সালে সেখান থেকে ৩২৭ কোটি টাকা আয় হয় ট্রাস্টের। সুদবাবদই আয় হয় ১৭৩ কোটি টাকা। রোজ ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ মন্দিরে প্রবেশ করেন। সপ্তাহান্তে এবং উৎসবের সময় আরও বাড়ে সংখ্য়া। মন্দিরের দানবাক্সের টাকা গোনার তদারকি করে SBI. চারটি বাক্সে টাকা জমা হয়, যা গোনা হয় ১৪ জন মিলে। এর মধ্যে তিন জন ব্যাঙ্কের কর্মী, তিন জন ট্রাস্টের। 

আর এই গোটা ঘটনায় চম্পতকে ঘিরেও বিতর্ক দানা বাঁধছে। ৭৯ বছর বয়সি চম্পত বিজেপি-র অভিভাবক সংস্থা RSS-এর প্রচারক ছিলেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শীর্ষস্থানীয় নেতাও তিনি। রামজন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মন্দির নির্মাণ এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হাতে পান। কিন্তু মাত্র আড়াই বছর কাটতে না কাটতেই চুরি, দুর্নীতির অভিযোগ। ২০২১ সালে যখন মন্দির নির্মাণের জন্য টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেই সময়ই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। জমি হস্তান্তর থেকে একাধিক বিষয়ে অনিয়ম নিয়ে সরব হন তাঁরা। 

একবার ফের বিতর্ক চরমে উঠেছে। প্রশ্নের মুখে পড়ছেন খোদ চম্পত। এন পরিস্থিতিতে তাঁর থেকে দূরত্ব রেখে চলছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমার জানান, রামমন্দির ট্রাস্ট সাম্প্রতিক কালে যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার কোনও দায় বিশ্ব হিন্দু পরিষজের। অযোধ্যার ভূমিতে রামমন্দির নির্মাণের নির্দেশ আসার পর  রামজন্মভূমি আন্দোলনে তাঁদের কাজে ইতি পড়ে বলে জানান অলোক। অলোক বলেন,”আমাদের কাজ শেষ। দেশের কোনও প্রান্তে মন্দির নির্মাণ এবং মন্দির চালানো বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কাজ নয়।” RSS এবং ক্ষমতাসীন সরকারকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত বলেও মত তাঁর। বলেন, “চম্পত রাই এবং রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওঁর কাজের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছি আমি।”

অলোক আরও বলেন, “অযোধ্যায় যা হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক, অত্যন্ত অসম্মানজনক। পৃথিবীর সব হিন্দুরা, বিশেষ করে যাঁরা টাকা দান করেছিলেন, করসেবক এবং তাঁদের পরিবারের লোকজনও অত্যন্ত আঘাত পেয়েছেন।” গোটা ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি, দোষীদের কড়া শাস্তির দাবিও তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’, তিন বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন, ৬৫ বছরের অপরাধীকে তিন মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনাল আদালত



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *