দিল্লি: NEET-এর প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে উত্তাল যন্তর মন্তর। হাসপাতালে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক। এই অবস্থার মাঝে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায়ও বসেন তাঁরা। আর বুধবার, সংসদে কালো কাপড় পরে বিক্ষোভ দেখাল কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরা। যাতে সামিল হয় তৃণমূলও।
নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনের ঝড় পৌঁছে গেল সংসদের ভিতরেও। সরকারপক্ষকে একযোগে আক্রমণ করল কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি। দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গেল সংসদ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্য়াগের দাবি তোলেন রাহুল গান্ধীরা। কংগ্রেসের মতো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্য়াগ দাবি করেছে তৃণমূলও।
NEET-এর প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ। এর বিরোধিতায় ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে পুলিশের অত্য়াচারের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের অদূরে রাহুল গান্ধীদের অবস্থান ঘিরে এখনও উত্তপ্ত দিল্লি। শুধু দিল্লি নয়, উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ ভবনও। বিরোধী দল-ছাত্র-যুব-শিল্পী থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের একাংশের নিশানায় মোদি সরকার। পাল্টা পড়ুয়াদের হাতিয়ার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগে সরব বিজেপ।
বিরোধীদের কী দাবি?
লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী জানান, ”সাধারণভাবেই দেখা যাচ্ছে, গত ১০ বছরে ১৫২টা প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। সাড়ে ৭ কোটি পড়ুয়া এবং তাঁদের পরিবার প্রশ্ন ফাঁসের ফল ভুগেছে। প্রশ্ন ফাঁস হয়, সাড়ে ৭ কোটি তরুণের ক্ষতি হয়, অথচ গত ১০ বছরে একজনও দোষী সাব্য়স্ত হয়নি।” রাহুল আরও বলেন, ”ধর্মেন্দ্র প্রধান একটা প্রতীক। ছাত্রদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তাতে তারা আহত। এই প্রতীকটাকে সরাতে হবে। এই প্রতীক সরাতে হবে, কারণ তিনি অদক্ষ, সম্ভবত এই নাটকের একটা অংশ। আমরা তাঁর অতীত জানি।”
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব জানান, ”এই ইস্যু কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বিজেপির নয়। এই ইস্যু যুবসমাজের।”
‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর সাংসদ সৌগত রায় জানান, ”আমরা দাবি করছি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আমরা চাইছি যে এই নিয়ে আলোচনা হোক।”
বিজেপির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া –
বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিং পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে জানান, ”ওদের এই আচরণের পিছনে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর উদ্দেশ্য রয়েছে। মামলা হওয়া উচিত।”
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, ”প্রধানমন্ত্রী মোদিজির নেতৃত্বে আমাদের সরকার পড়ুয়া ও নব প্রজন্মের স্বপ্নপূরণ করা এবং তাদের কল্যাণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিরোধীরা সংসদে নয়, ইস্যুকে রাস্তায় সমাধান করার অনুচিত চেষ্টা করছে। গণতন্ত্রের ইস্যুতে আলোচনা করার জায়গা হল সংসদ।”
বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানান, ”টিএমসি বা কালীঘাট টিএমসি, যাই বলুন না কেন, তারা নিজেরা কলকাতায় ডুবেছে। এখন এখানে এসেছে কংগ্রেসকে ডোবানোর জন্য।”
