Rain Waterlogging : টানা বৃষ্টিতে ভেসেছে রাস্তাঘাট, বাড়ি ফেরার সময় খোলা নর্দমায় পড়ে ভেসে গেলেন যুবক


নয়া দিল্লি:  প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল রাজধানী দিল্লিতে।  প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন যুবক। কিন্তু ফেরা হল না। রোজকার চেনা পথেই হারিয়ে গেলেন তিনি। চলে গেল প্রাণ। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ সরিতা বিহার থানার অন্তর্গত প্রিয়াঙ্কা ক্যাম্প এলাকায়। আর তার জন্য শুধু প্রকৃতি নয়, অবশ্যই অভিযোগের তির উঠেছে প্রশাসনিক ও পুরবিভাগের গা-ফিলতির দিকে। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপচে পড়া নর্দমায় পড়ে গেলেন অঙ্কিত। নিখোঁজ হয়ে গেলেন ১৮ বছরের যুবক। NDRF ও ডুবুরি দল তন্নতন্ন করে খুঁজেও পেল না দেহ। এখনও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি।

নয়াদিল্লি: শুক্রবার সন্ধ্যাটা অন্য দিনের মতোই ছিল ১৮ বছরের অঙ্কিতের কাছে। নয়ডার একটি সংস্থায় কাজ শেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লিতে নিজের বাড়ির পথে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু দিল্লি-NCR জুড়ে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সেই বাড়ি ফেরার পথই পরিণত হল মর্মান্তিক ঘটনায়। সেতুর কাছে উপচে পড়া একটি খোলা নর্দমায় পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান অঙ্কিত।  ঘটনার পর কেটে গিয়েছে প্রায় ২৪ ঘণ্টা । কিন্তু এখনও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি।  তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ, NDRF এবং ডুবুরি দল।
 
ওই পরিবারে দুইটি ছেলে। বড় ছেলে অঙ্কিতের বয়স ছিল ১৮। ছোটখাটো কাজ করতেন তিনি। সেদিন কাজ শেষ করেই বাড়ি ফিরছিলেন। সরিতা বিহারের একটি ব্রিজের কাছে একটি খোলা নর্দমায় পড়ে যান বুঝতে না -পেরে।  স্থানীয়রা বলছেন,এমনি সময়ে নর্দমাটিতে জলের গভীরতা খুব বেশি থাকে না। কিন্তু শুক্রবার প্রবল বৃষ্টির পর সেখানে জলের স্রোত অত্যন্ত বেড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেতুর কাছে থাকা কয়েকজন অঙ্কিতকে ওই জায়গা দিয়ে পার হতে মানা করেছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার তাড়া থাকায় তিনি সেতুর পাশ দিয়ে লাফিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করেন। 

সেই সময়ই পা পিছলে নর্দমায় পড়ে যান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলের স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই অঙ্কিতকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। চোখের সামনে ঘটনাটি ঘটলেও স্রোতের কারণে তাঁকে আর দেখতে পাননি কেউ।  অঙ্কিতের বাবা সুনীল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তিনি পুলিশকে ফোন করেন। শুক্রবার রাতেই পুলিশকর্মী ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু অন্ধকার নেমে আসায় রাতের তল্লাশি চালানো সম্ভব হয়নি। পরিবারকে জানানো হয়, পরদিন সকালে ফের উদ্ধারকাজ শুরু করা হবে। তবে পরদিন তল্লাশি চালিয়েও তাঁর খোঁজ মেলেনি।     

ছেলেকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি আরও জোরদার করার আবেদন জানিয়েছেন অঙ্কিতের বাবা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অঙ্কিত নয়ডার সেক্টর ৬২-র একটি সংস্থায় প্যান্ট্রি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাকে না পাওয়া গেলে পরিবারটি অর্থনৈতিক ভাবেও বিপদে পড়বে।  এই দুর্ঘটনার পর ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে এলাকার খোলা নর্দমাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন,  খোলা নর্দমাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই দাবি তাদের।  অঙ্কিত নর্দমায় পড়ে যাওয়ার পর জলের স্রোত এতটাই তীব্র ছিল যে তাঁকে সাহায্য করার কার্যত কোনও সুযোগ ছিল না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *